মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংগঠনটির তথ্যানুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুল ও মাদরাসার শিক্ষার্থী ৩,৩২৮ জন (৪৫.১৯%) এবং ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ৪,০৩৬ জন (৫৪.৮০%)। দুর্ঘটনার ধরন অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের চালক বা আরোহী হিসেবে নিহত হয়েছেন ৩,৮৪১ জন, পথচারী হিসেবে ১,৯২৩ জন, যানবাহনের যাত্রী হিসেবে ৯২৭ জন, বাইসাইকেল ও রিকশার আরোহী হিসেবে ৫১৯ জন এবং অটোরিকশার চাকায় ওড়না বা পোশাক পেঁচিয়ে মারা গেছেন ১৫৪ জন। সড়কভিত্তিক পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি ২,১৪৯ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন আঞ্চলিক সড়কে। এরপর গ্রামীণ সড়কে ১,৯৪৭ জন, শহরের সড়কে ১,৭৮৬ জন এবং মহাসড়কে ১,৪৮২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫ থেকে ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা মূলত স্কুলে যাওয়া-আসা ও বাড়ির আশপাশে খেলাধুলার সময় অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও পণ্যবাহী যানবাহনের ধাক্কায় বেশি নিহত হয়েছে। অন্যদিকে ১৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী হিসেবে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। বছরভিত্তিক হিসাবে শিক্ষার্থী নিহতের সংখ্যা ছিল—২০১৯ সালে ৬৯৩ জন, ২০২০ সালে ৭১৯ জন, ২০২১ সালে ৯৩৬ জন, ২০২২ সালে সর্বোচ্চ ১,৩৮৫ জন, ২০২৩ সালে ১,১৫৩ জন, ২০২৪ সালে ১,০৭৩ জন, ২০২৫ সালে ১,০১৪ জন এবং ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ৩৯১ জন।এ ছাড়া একই সময়ে অসাবধানে রেললাইন পারাপার ও কানে হেডফোন ব্যবহার করে রেললাইন ধরে হাঁটার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে আরও ১,২৩৭ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক, অনিরাপদ যানবাহন, নিরাপদ সড়ক ব্যবহারে সচেতনতার অভাব, ট্রাফিক আইন অমান্য, শিক্ষার্থীদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো এবং সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণের ঘাটতিসহ বিভিন্ন কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।সংগঠনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সড়ক নিরাপত্তা ক্যাম্পেইন, পাঠ্যক্রমে সড়ক নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্তি, অনিরাপদ যানবাহন বন্ধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের মোটরসাইকেল চালানো কঠোরভাবে বন্ধে আইন প্রয়োগের সুপারিশ করেছে।.
Ajker Bogura / সামসিল আরিফিন
আপনার মতামত লিখুন: