বগুড়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতির চিত্র উঠে এসেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সাম্প্রতিক মূল্যায়ন জরিপে। জরিপ অনুযায়ী, জেলার পঞ্চম শ্রেণির ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজি পড়তে ও বুঝতে পারে না। একই শ্রেণির ২৪ শতাংশ শিক্ষার্থী বাংলা রিডিং পড়তে পারে না এবং ৪১ শতাংশ শিক্ষার্থী সাধারণ গণিতের হিসাব করতে বা সমাধান করতে সক্ষম নয়।.
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, জেলার ১ হাজার ৬০৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির মোট ৭৬ হাজার ১৬৯ শিক্ষার্থীর ওপর মৌলিক সাক্ষরতা ও সংখ্যাজ্ঞান—এফএলএন (FLN) মূল্যায়ন জরিপ পরিচালনা করা হয়। FLN-এর অর্থ হলো বুনিয়াদি সাক্ষরতা ও সংখ্যাজ্ঞান।.
পঞ্চম শ্রেণিতে ইংরেজিতে বেশি দুর্বলতা.
জরিপে পঞ্চম শ্রেণির মোট ৩৯ হাজার ৪৮৭ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪০ শতাংশ ইংরেজি পড়তে ও বুঝতে পারে না। অর্থাৎ মাত্র ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজি রিডিংয়ে সক্ষম। সংখ্যার হিসাবে জরিপে অংশ নেওয়া ২৩ হাজার ৬৮৩ জন শিক্ষার্থী ইংরেজি পড়তে পেরেছে।.
বাংলার ক্ষেত্রেও চিত্র পুরোপুরি সন্তোষজনক নয়। পঞ্চম শ্রেণির ২৪ শতাংশ শিক্ষার্থী বাংলা রিডিং পড়তে পারে না। অর্থাৎ ৭৬ শতাংশ শিক্ষার্থী বাংলা পড়তে সক্ষম।.
গণিতেও রয়েছে বড় ধরনের শিখন ঘাটতি। পঞ্চম শ্রেণির ৪১ শতাংশ শিক্ষার্থী সাধারণ গণিতের হিসাব করতে বা সমাধান করতে পারে না।.
তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতেও উদ্বেগজনক চিত্র.
জরিপে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য শিখন ঘাটতি পাওয়া গেছে। তৃতীয় শ্রেণির মোট ৩৫ হাজার ৩২৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৯ শতাংশ গণিত করতে পারে না। একই শ্রেণির ৩১ শতাংশ শিক্ষার্থী বাংলা রিডিং পড়তে অক্ষম।.
চতুর্থ শ্রেণিতেও পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়। এ শ্রেণির ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী সাধারণ গণিত সমাধান করতে পারে না। একইভাবে ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজি রিডিং পড়তে পারে না।.
চরাঞ্চলে সংকট বেশি.
উপজেলাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যমুনা নদীবেষ্টিত ও দুর্গম চরাঞ্চল অধ্যুষিত উপজেলাগুলোর কিছু বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি তুলনামূলক বেশি।.
বিশেষ করে ধুনট ও সারিয়াকান্দি উপজেলার চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে পরিস্থিতি বেশি নাজুক বলে জরিপে উঠে এসেছে।.
ধুনট উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণির ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী গণিতে এবং ৪১ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজিতে সম্পূর্ণ অদক্ষ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।.
সারিয়াকান্দি উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণির ৪১ শতাংশ শিশু গণিতের সাধারণ হিসাব করতে পারে না। আর চতুর্থ শ্রেণির ৪৩ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজি পড়তে পারে না।.
তবে চরাঞ্চল থাকা সত্ত্বেও সোনাতলা উপজেলায় শিক্ষার্থীদের সফলতার হার তুলনামূলক ভালো। সেখানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতার হার ৯৪ থেকে ৯৮ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।.
অন্যদিকে চরাঞ্চলের বাইরে শেরপুর উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণির সর্বোচ্চ ৬২ শতাংশ শিশু গণিতে এবং চতুর্থ শ্রেণির ৬১ শতাংশ শিশু ইংরেজিতে অদক্ষ হিসেবে জরিপে উঠে এসেছে।.
শিখন ঘাটতি কমাতে ছয় মাসের কর্মসূচি.
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, জরিপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও শিখন ঘাটতির জায়গাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ঘাটতি পূরণে ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।.
বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রেজোয়ান হোসেন জানান, গত জুন মাস থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও খেলাধুলায় মনোযোগ বাড়াতে ছয় মাসের কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।.
তার ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মসূচির মাধ্যমে ইতোমধ্যে কিছু সাফল্য আসতে শুরু করেছে। আগামী ডিসেম্বর মাসে কর্মসূচির চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়া যাবে।.
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এই মূল্যায়ন জরিপে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে মৌলিক দক্ষতার ঘাটতির যে চিত্র উঠে এসেছে, তা শিক্ষার মানোন্নয়নে বিদ্যালয়ভিত্তিক ও উপজেলা-ভিত্তিক কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।.
Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ
আপনার মতামত লিখুন: