বগুড়ায় আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি এলাকাবাসীর
বগুড়ার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত একাধিক আবাসিক হোটেল ও মোটেলকে ঘিরে অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, শহরের ঐতিহাসিক মহাস্থান এলাকা থেকে শুরু করে শহরতলীর মাটিডালি বিমান মোড় হয়ে উত্তরদিকে তিনমাথা রেলগেইট পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় নতুন-পুরাতন মিলিয়ে অন্তত ১৩টি আবাসিক হোটেল ও চাইনিজ রেস্টুরেন্ট-কাম-হোটেলে নিয়মিতভাবে অনৈতিক কার্যকলাপ পরিচালিত হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এসব হোটেলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো—হোটেল অবকাশ, হোটেল গোধুলি, হোটেল ড্রিম প্যালেস এবং হোটেল গোধুলি-২। এলাকাবাসীর দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে গোপনে দেহ ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে, যা দিন দিন আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি এ এলাকায় নতুন করে গড়ে ওঠা কিছু চাইনিজ রেস্টুরেন্ট-কাম-আবাসিক হোটেল মূলত এই ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শুধু দেহ ব্যবসাই নয়, বরং এসব স্থানে মাদক সেবন, মাদকের লেনদেন, এমনকি বিভিন্ন অবৈধ আর্থিক লেনদেনও হয়ে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের একটি অংশকে প্রভাবিত করা এবং কিছু অসাধু সাংবাদিকের সহায়তা নেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। ফলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্টদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।
এই পরিস্থিতিতে এলাকায় চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে সামাজিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং তরুণ সমাজ বিপথে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, অবিলম্বে এসব আবাসিক হোটেলে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করা হোক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
একইসঙ্গে সৎ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকদের সম্মান রক্ষার স্বার্থেও এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশাসন ও গণমাধ্যম সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।.
Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ
আপনার মতামত লিখুন: