• ঢাকা
  • রবিবার, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ০৭ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

ছিনতাইকারীর অভয়ারণ্য হয়ে উঠছে বগুড়া শহরের অলিগলি, নিরাপত্তা জোরদারের দাবি


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: রবিবার, ০৭ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০১:০৫ পিএম
ছবি : প্রতীকী
ছবি : প্রতীকী

বগুড়া শহরের অলিগলিতে ছিনতাই আতঙ্ক, কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি

বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ছোট ছোট এলাকা, অলিগলি ও সংযোগ সড়ক দিন দিন ছিনতাইকারী চক্রের দখলে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শহরের অনেক অন্ধকার গলি, নির্জন রাস্তা, ফাঁকা মোড় এবং অপর্যাপ্ত আলোকসজ্জার এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।.

নগরবাসীর অভিযোগ, অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত ল্যাম্পপোস্ট না থাকায় অপরাধীরা সহজেই অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে ছিনতাই, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া, পথচারীদের ভয়ভীতি দেখানোসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, নারী ও বয়স্ক নাগরিকরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।.

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু পুলিশি অভিযান নয়, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং জনসচেতনতার সমন্বয়েই এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।.

করণীয় যা হতে পারে

১. প্রতিটি গলি ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সিসি ক্যামেরা স্থাপন.

  • শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে আধুনিক সিসিটিভি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে।
  • ক্যামেরাগুলোকে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সিস্টেমের আওতায় আনতে হবে।
  • অপরাধ সংঘটিত হলে দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সহায়ক হবে।

২. পুলিশি টহল বৃদ্ধি.

  • রাতের বেলায় নিয়মিত মোবাইল প্যাট্রোল পরিচালনা।
  • ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মোটরসাইকেল ও পায়ে হেঁটে টহল।
  • ছিনতাইপ্রবণ এলাকাগুলোর তালিকা তৈরি করে বিশেষ নজরদারি।

৩. পর্যাপ্ত ল্যাম্পপোস্ট ও আলোকসজ্জা.

  • অন্ধকার গলি ও রাস্তাগুলোতে নতুন ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন।
  • নষ্ট হয়ে যাওয়া স্ট্রিটলাইট দ্রুত মেরামত।
  • সৌরবিদ্যুৎচালিত লাইট স্থাপনের উদ্যোগ।

৪. কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার.

  • স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে নিরাপত্তা কমিটি গঠন।
  • সন্দেহজনক চলাফেরা সম্পর্কে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান।
  • পুলিশ ও জনগণের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি।

৫. জরুরি হটলাইন ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া ইউনিট.

  • ছিনতাই বা অপরাধের খবর পেলে তাৎক্ষণিক সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা।
  • প্রতিটি ওয়ার্ডে জরুরি যোগাযোগ নম্বর প্রচার।

৬. পরিত্যক্ত স্থান ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার.

  • অপরাধীরা যাতে আড়াল নিতে না পারে সেজন্য ঝোপঝাড় ও পরিত্যক্ত জায়গা পরিষ্কার রাখা।
  • অব্যবহৃত ভবন ও নির্জন স্থানে বিশেষ নজরদারি।

৭. কিশোর গ্যাং ও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান.

  • নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি।
  • অপরাধে জড়িত চক্র শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা।
  • ঝুঁকিপূর্ণ তরুণদের পুনর্বাসন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম।

৮. বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে নিরাপত্তা বৃদ্ধি.

  • বেশি জনসমাগম এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি।
  • স্কুল-কলেজ ছুটির সময় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

৯. নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি.

  • সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্কতামূলক প্রচারণা।
  • একা চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নির্দেশনা প্রচার।

১০. স্মার্ট সিটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু.

  • ক্যামেরা, ট্রাফিক মনিটরিং ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত ডিজিটাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।
  • অপরাধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণ।

নগরবাসীর প্রত্যাশা, বগুড়া সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করলে শহরের অলিগলি ও সড়কগুলো আবারও নিরাপদ হয়ে উঠবে এবং সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে চলাচল করতে পারবেন।.

স্টাফ রিপোর্টার: সামসিল আরিফিন. .

Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ

খোলা-কলাম বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ