আজিজুল হক কলেজের ইংলিশ ভবনের পাশের সড়ক: প্রকাশ্য মাদকসেবনের আখড়া.
বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের নতুন নির্মিত ইংলিশ ভবনের গা ঘেঁষে চলে গেছে একটি মনোরম সড়ক। চারদিকে সারিবদ্ধ বৃক্ষ, পাশে পুকুর এবং খোলামেলা পরিবেশের কারণে এটি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের হাঁটা, বসা, আড্ডা দেওয়া এবং নির্মল বাতাস উপভোগের অন্যতম স্থান হিসেবে পরিচিত।.
কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, বর্তমানে এই এলাকাটি প্রকাশ্যে গাঁজা ও অন্যান্য মাদক সেবনের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যা নামলেই এখানে মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। অনেকেই প্রকাশ্যেই গাঁজা সেবন করেন, যার ধোঁয়া ও পরিবেশের প্রভাব সরাসরি শিক্ষার্থী, নারী, শিশু এবং সাধারণ পথচারীদের ওপর পড়ছে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সন্নিকটে এমন পরিস্থিতি শুধু অনাকাঙ্ক্ষিত নয়, বরং সামাজিক ও আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।.
বাংলাদেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী গাঁজা ও অন্যান্য নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্যের অবৈধ ব্যবহার, বহন, সংরক্ষণ ও লেনদেন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব এসব অপরাধ প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি, অভিযান পরিচালনা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।.
একই সঙ্গে একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, শিক্ষা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, ভয়মুক্ত ও মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম মৌলিক শর্ত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে মাদকসেবনের বিস্তার নতুন প্রজন্মকে বিপথগামী হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলতে পারে এবং কলেজের সুনাম ও শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।.
এ ধরনের পরিস্থিতির ফলে—.
- শিক্ষার্থীদের মানসিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়।
- নারী শিক্ষার্থী ও পথচারীদের চলাচলে অস্বস্তি ও ভয় সৃষ্টি হয়।
- মাদকসেবনকে কেন্দ্র করে ছিনতাই, চুরি, ইভটিজিং ও অন্যান্য অপরাধ বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়।
- কলেজের ভাবমূর্তি ও শিক্ষার পরিবেশ ক্ষুণ্ন হয়।
- তরুণদের মধ্যে মাদকের প্রতি কৌতূহল ও আসক্তির ঝুঁকি বাড়ে।.
এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কয়েকটি যৌক্তিক দাবি জানানো হচ্ছে—.
১. প্রতিদিন বিকেল ও সন্ধ্যায় এলাকায় নিয়মিত পুলিশ টহল নিশ্চিত করতে হবে।
২. মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
৩. কলেজ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. কলেজের নিরাপত্তাকর্মীদের টহল জোরদার করতে হবে।
৫. এলাকায় "মাদকমুক্ত শিক্ষাঙ্গন" বিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
৬. স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও নাগরিক সমাজকে নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
৭. মাদকসেবন বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড দেখলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।.
আমরা বিশ্বাস করি, প্রশাসন, কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নিলে অতি দ্রুত এই সমস্যা সমাধান সম্ভব। একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষা, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সমাজকে মাদকমুক্ত রাখার স্বার্থে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সময়ের দাবি।.
মাদকমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়ে তুলি, নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করি।.
. .
Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ
আপনার মতামত লিখুন: