• ঢাকা
  • বুধবার, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২২ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

অভাবকে জয় করে বিশ্বমঞ্চে বগুড়ার অনন্যা


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২:৩৫ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী, কিন্তু স্বপ্ন ছিল আকাশছোঁয়া। সেই স্বপ্ন আর অদম্য পরিশ্রমের শক্তিতেই বগুড়ার গাবতলী উপজেলার উজগ্রাম দক্ষিণপাড়া ইউনিয়নের মণ্ডলপাড়ার মেয়ে মোছা. অনন্যা খাতুন আজ পৌঁছে গেছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ড (UQ)-এ। তিনি পূর্ণ অর্থায়নে (ফুলি ফান্ডেড) পিএইচডি গবেষণার সুযোগ অর্জন করেছেন।.

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বাবার সীমিত আয় আর গৃহিণী মায়ের সংগ্রামী সংসারে বেড়ে ওঠা অনন্যার শিক্ষাজীবন মোটেও সহজ ছিল না। আর্থিক সংকটের মধ্যেও প্রাথমিক ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুল বৃত্তি লাভ করেন। সেই বৃত্তির অর্থই হয়ে ওঠে তার পড়াশোনার অন্যতম ভরসা। পাশাপাশি শিক্ষকদের সহযোগিতা ও উৎসাহ তাকে এগিয়ে যেতে শক্তি জুগিয়েছে।.

২০১১ সালে এসএসসি এবং ২০১৩ সালে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জনের পর তিনি হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদে ভর্তি হন। সেখানে স্নাতকে ৩.৯৬ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৮০ সিজিপিএ নিয়ে উভয় পর্যায়েই প্রথম স্থান অর্জন করেন। তার এই কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০১৯ সালের প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত হন।.

শুধু একাডেমিক ফলেই নয়, গবেষণাতেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন অনন্যা। ২০২২ সালে হাবিপ্রবির উদ্যানতত্ত্ব বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দিয়ে বর্তমানে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (MoST) এবং হাবিপ্রবির ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (IRT)-এর বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্প পরিচালনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের স্কোপাস ইনডেক্সড জার্নালে তার ১৩টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।.

সম্প্রতি তিনি অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ পেয়েছেন। আগামী সেপ্টেম্বরে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার কথা রয়েছে তার।.

নিজের অনুভূতি জানিয়ে অনন্যা বলেন, স্বপ্নকে কখনো ছোট করে দেখেননি তিনি। কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য, পরিবারের অনুপ্রেরণা এবং মহান আল্লাহর রহমতেই আজকের এই অবস্থানে পৌঁছেছেন। ভবিষ্যতে কৃষি গবেষণায় নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করে দেশ ও শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে চান বলেও জানান তিনি।.

বগুড়ার এই মেধাবী তরুণীর সাফল্য প্রমাণ করে—প্রতিকূলতা কখনোই স্বপ্নের পথে শেষ বাধা নয়। দৃঢ় সংকল্প, অধ্যবসায় ও নিরলস পরিশ্রম থাকলে গ্রামের একটি সাধারণ পরিবার থেকেও বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজায় পৌঁছানো সম্ভব।. .

Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ

খোলা-কলাম বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ