• ঢাকা
  • সোমবার, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ০৯ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

বগুড়ায় প্রকাশ্যে সমকামিতা প্রচার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: রবিবার, ০৮ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৫:৩৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

 .

বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ, যেখানে সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং পারিবারিক ব্যবস্থার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানের মতো বগুড়া জেলাতেও এমন কিছু বিষয় নিয়ে সামাজিক আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে, যেখানে সমকামিতাকে প্রকাশ্যে স্বাভাবিক আচরণ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অনেকে মনে করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ, প্রকাশ্যে ঘনিষ্ঠ মেলামেশা এবং এসব বিষয়কে স্বাভাবিক হিসেবে প্রচারের প্রবণতা অনেকের কাছে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে মনে হচ্ছে।.

ইসলামের দৃষ্টিতে সমকামিতা বৈধ নয়। ইসলামী শিক্ষায় শালীনতা, নৈতিকতা এবং পরিবারভিত্তিক সমাজব্যবস্থাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআনে হযরত লুত (আ.)–এর সম্প্রদায়ের ঘটনা উল্লেখ করে এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। ইসলামের আলোকে বৈধ সম্পর্ক হলো বিবাহের মাধ্যমে নারী ও পুরুষের পারিবারিক বন্ধন, যার মাধ্যমে সমাজে স্থিতিশীলতা, নৈতিকতা এবং পারিবারিক কাঠামো রক্ষা পায়।.

আইনগত দিক থেকেও বাংলাদেশে এ বিষয়ে একটি বিধান বিদ্যমান। বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ধারা ৩৭৭ অনুযায়ী প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মের পরিপন্থী যৌন সম্পর্ককে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে, তাহলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং এর জন্য কারাদণ্ডসহ অন্যান্য শাস্তির বিধান রয়েছে।.

বাংলাদেশের সংবিধান সমাজে নৈতিকতা, শালীনতা এবং আইনের শাসন বজায় রাখার বিষয়কে গুরুত্ব দেয়। সেই প্রেক্ষাপটে সমাজের অনেকেই মনে করেন যে এমন কোনো আচরণ বা প্রচারণা যা সামাজিক শালীনতা বা প্রচলিত মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, তা প্রকাশ্যে উৎসাহিত করা সমীচীন নয়। বিশেষ করে তরুণ সমাজের সামনে যে কোনো বিষয় উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং আইনি কাঠামোর বিষয়টি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।.

সামাজিক স্থিতি, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং নৈতিক পরিবেশ বজায় রাখতে সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ। তাই সমাজের সকল স্তরের মানুষের উচিত আইন মেনে চলা, সামাজিক শালীনতা বজায় রাখা এবং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে নৈতিকতা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং পারস্পরিক সম্মান অক্ষুণ্ণ থাকে।. .

Ajker Bogura / ডেস্ক রিপোর্ট

খোলা-কলাম বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ