• ঢাকা
  • রবিবার, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ০১ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

অবিভক্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মাদ আলী ও তাঁর স্ত্রীর কবরস্থান মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ ফেরুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৮:২৫ পিএম
মোহাম্মাদ আলী বগুড়া
মোহাম্মাদ আলী বগুড়া

অবিভক্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও বগুড়া নবাব পরিবারের কৃতি সন্তান মোহাম্মাদ আলী বগুড়া ও তাঁর সহধর্মীনি হামিদা বানুর শেষ স্মৃতিচিহ্ন কবরস্থান কয়েক বছর ধরে অযত্ন অবহলোয় থাকার পর মুছে ফেলা হচ্ছে। বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে বগুড়ার ওইতিহ্যবাহী জামিদার বাড়ী নবাব প্যালেস ওয়াকফ সম্পত্তি সত্বেও কিনে নিয়ে আওয়ামী প্রভাবশালীরা দখলে নেয়ার পর কবরের স্মৃতি মুছে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু করে। এ ঘটনায় বগুড়াবাসী ক্ষুদ্ধ । তারা কবর রক্ষা সহ ওয়াকফ সম্পত্তি ক্রয় বিক্রয় তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নিতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।.

 .

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ার তৎকালীন নবাব পরিবারের কৃতি সন্তান মোহাম্মাদ আলী বগুড়া ভারতবর্ষ ও অবিভক্ত পাকিস্তানের একাধারে প্রধান মন্ত্রী , পররাষ্ট্র, অর্থ , স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন। তিনি ১৯৬৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী তৎকালীন অবিভক্ত পাকিস্তান সরকারের পররাষ্ট্রমšী¿ থাকাকালীন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর ঢাকার ধানমন্ডির বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। তাঁর ওসিয়ত মতে লাশ দাফনের জন্য ঢাকা থেকে ট্রেনে বগুড়ায় নিয়ে আসা হয়। লাশ দাফনের জন্য বগুড়া শহরের নিউ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় (বড়) জামে মসজিদের সামনে নবাব পরিবারের পারিবারিক কবরস্থানে মোহাম্মদ আলীর পিতা আলতাফ আলী চৌধুরী ও পিতামহী আলতাফুননেছার পিতা নবাব আব্দুস সোবাহান চৌধুরীর কবরের পাশে দাফন করার জন্য কবর খনন করা হয় ।.

 .

তখন তৎকালীন বগুড়ার পাঞ্জাবী নাগরিক জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাফতুন আহম্মেদের কাছে বার্তা আসে , পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনা হলো মোহাম্মদ আলীর কবরস্থান ঘিরে সৌধ নির্মাণ করা হবে। এ জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকতে হবে । তখন কেন্দ্রীয় বড় জামে মসজিদের কবরস্থানে সে জায়গা ছিলনা । তাই নবাববাড়ীর (নবাব প্যালেস) ছায়াঘেরা আমবাগানে মোহাম্মদ আলীকে দাফন করা হয় ।.

 .

পরে মুজিব সরকারের আমলে মোহাম্মাদ আলীর সহধর্মীনি হামিদা বানুর মৃত্যু হলে তার লাশ ও ঢাকা থেকে বগুড়ায় নিয়ে এসে স্বামীর কবরের পাশে দাফন করা হয়। মোহাম্মাদ আলীর ইন্তেকালের একমাস পর তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান মোহাম্মদ আলীর কবর জিয়ারত করতে বগুড়ায় আসেন। তিনি এসময় নবাববাড়ীতে মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী, পুত্র ,কন্যা ও পরিবারের অন্যান্যদের সাথে সাক্ষাৎ করেন ।.

 .

১৯৫৩ সালে তিনি যখন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধান মন্ত্রী তখন রাজধানী ছিল করাচী । তাঁর নাম স্মরণীয় করে রাখার জন্য করাচী মহানগরে “মোহাম্মদ আলী বগুড়া” নামে একটি সড়ক নামকরন করা হয় যা আজও বিদ্যমান রয়েছে । কিন্ত পরবর্তিতে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার তাঁদের প্রতিশ্রুতি কবর ঘিরে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেনি । ফলে কবরটি সাদামাটা অবস্থায় পড়ে আছে ৬৩ বছর ধরে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনেও তাঁর অনেক ত্যাগ ও অবদান রয়েছে । ১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলার হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দীর মন্ত্রী পরিষদে তিনি অর্থ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রী ছিলেন ।.

 .

এদিকে বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলে বগুড়া জেলা আওয়ামীলীগের তৎকালীন সভাপতি মরহুম মমতাজ উদ্দিনের কণিষ্ঠ পুত্র ও বগুড়া চেম্বার অব কমার্সের তৎকালীন সভাপতি মাসুদার রহমান মিলন ও তার কয়েক সহযোগি কবরের পাশের নবাব বাড়ী প্যালেস ওয়াকফ সম্পত্তি সত্বেও ক্রয় করেন। এরপর নবাব প্যালেস ভবন ভেঙ্গে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়।.

 .

নতুন প্রজন্ম ওই এলাকায় গেলে বুঝতেই পারবে না সেখানে একসময় নবাব বাড়ী ছিল যেখান থেকে অবিভক্ত পাকিস্তান ও ভারত বর্ষের প্রশাসন ও মুসলিম লীগের রাজনীতি পরিচালিত হতো। বর্তমানে কবরস্থানটি অযত্ন অবহেলায় রয়েছে। কবরের কোন বেরিকেড না থাকায় কবর চিহ্ন মুছে যাওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।.

 .

এ ব্যাপারে প্রবীন সাংবাদিক ও ইতিহাসবিদ আব্দুর রহিম বগরা বলেন, নবাববাড়ীও আমবাগান দুইটি দাগে ১০ বিঘা সম্পত্তি রয়েছে। এই সম্পত্তি নবাব পরিবার সরকারকে ওয়াকফ করে দিয়েছেন। কিন্তু মোহাম্মাদ আলীর মৃত্যুর পর নব্বই দশকে নবাব প্যালেসের পাশে মোহাম্মাদ আলীর পুত্র হামদে আলী চৌধুরী অবৈধভাবে ওয়াকফ সম্পত্তি বিক্রি করে দেন । যেখানে বর্তমানে নবাব আলতাফ আলী চৌধুরী মার্কেট , পাশে আল আমিনশপিং কমপ্লেক্্র ও টিএমএসএস মহিলা মার্কেট নির্মান করা হয়।.

 .

সর্বশেষ গত কয়েক বছর আগে আওয়ামীলীগ আমলে জেলা আওয়ামীলীগের নেতা মাসুদার রহমান মিলন ও তার কয়েক ব্যবসায়ী পার্টনার নবাব বাড়ী ভবন সহ আমবাগান ক্রয় করে সুরম্য ভবনটি ভেঙ্গে ফেলেন। সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনার কথা শোনা গেলেও তা আর বাস্তবায়ন হয়নি। তাই সরকারের নিকট দাবী নবাব পরিবারের ১০ বিঘা জমি ওয়াকফ সম্পত্তি তদন্ত করা হোক। এই জমি কেউ ক্রয় বিক্রয় করতে পারেন না।.

 .

মরহুম খালেদা জিয়ার সরকারের (১৯৯১-১৯৯৬) আমলে তদন্ত করে ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে প্রতিবেদন পাওয়া যায়। তারপর ওই সম্পত্তি উদ্ধারে সরকারের কোন উদ্যোগ চোখে পড়েনি। বগুড়াবাসী মোহাম্মাদ আলীর কবর রক্ষা এবং ওয়াকফ সম্পত্তি উদ্ধারে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।. .

Ajker Bogura / মো. সাইমুম জাহান

স্মরণীয় ও বরণীয় বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ