• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১২ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

বগুড়ার কৃতী সাহিত্যিক মাফরুহা চৌধুরী: কথাসাহিত্য, সাংবাদিকতা ও সংস্কৃতিচর্চায় উজ্জ্বল এক নাম


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২:৪৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত (এডিটেড)

বগুড়া শহরের কাটনারপাড়ার কৃতী সন্তান মাফরুহা চৌধুরী ছিলেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট লেখক, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মী। সাহিত্য, সাংবাদিকতা এবং শিশু-কিশোর সাহিত্যচর্চায় তাঁর অবদান বাংলা সাহিত্যে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে। তিনি ছিলেন স্বনামধন্য কবি তালিম হোসেনের সহধর্মিণী এবং বিশিষ্ট নজরুলসংগীত শিল্পী শবনম মুস্তারীর জননী।.

মাফরুহা চৌধুরী ১৯৩৪ সালের ২৭ জুলাই বগুড়া শহরের কাটনারপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মকবুল হোসেন ছিলেন একজন দক্ষ আবৃত্তিকার, নাট্যাভিনেতা ও ব্যবসায়ী এবং মাতা ফাতেমা খাতুন ছিলেন গৃহিণী। শৈশব থেকেই তিনি মেধাবী ও সাহিত্যপ্রবণ ছিলেন। কাটনারপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করে ১৯৫০ সালে বগুড়ার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল স্কুল থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন।.

মাত্র নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায় তাঁর প্রথম গল্প ‘দীনবন্ধু মুকুলের মহফিলে’ প্রকাশিত হয়। এর মধ্য দিয়েই সাহিত্যজগতে তাঁর সম্ভাবনাময় যাত্রা শুরু হয়।.

১৯৫১ সালে কবি তালিম হোসেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পরও তিনি লেখাপড়া অব্যাহত রাখেন এবং বিএ ও বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন। স্বামী ও শ্বশুরের উৎসাহে সাহিত্যচর্চা এবং পেশাগত জীবনকে সমানভাবে এগিয়ে নিয়ে যান। পরবর্তীতে ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের ফলে দেশের প্রখ্যাত শিল্পী, সাহিত্যিক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।.

কর্মজীবনে তিনি সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুল ও শাহীন স্কুলে শিক্ষকতা করেন। পরে সাংবাদিকতায় যুক্ত হয়ে দৈনিক মিল্লাত পত্রিকার মহিলা বিভাগের পরিচালিকার দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে দৈনিক পাকিস্তান এবং স্বাধীনতার পর দৈনিক বাংলা পত্রিকায় দীর্ঘদিন সহকারী সম্পাদক ও মহিলা বিভাগের সম্পাদিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ‘মিতশ্রী’ ছদ্মনামে ‘সদর অন্দর’ এবং পরে নিজের নামে ‘স্বরব্যঞ্জন’ কলাম লিখে পাঠকমহলে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।.

মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত হলেও গল্প, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, স্মৃতিচারণ, শিশুতোষ সাহিত্য ও অনুবাদ সাহিত্যে তাঁর ছিল সমান দক্ষতা। সমাজ, মানবমন, মনস্তত্ত্ব ও জীবনবোধ তাঁর রচনার প্রধান উপজীব্য। ১৯৮৫ সালে কলকাতার ‘চতুরঙ্গ’ পত্রিকার উদ্যোগে প্রকাশিত ভারত উপমহাদেশের ১৮ ভাষার নির্বাচিত ছোটগল্প সংকলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী লেখক হিসেবে তাঁর গল্প স্থান পায়, যা তাঁর সাহিত্যকীর্তির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বহন করে।.

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘অরণ্যগাঁথা ও অন্যান্য গল্প’, ‘কোথাও ঝর’, ‘বিদীর্ণ প্রহর’, ‘নিঃশর্ত করতালি’, ‘শব নিয়ে বসবাস’, ‘ছায়াপথের মানচিত্র’, ‘এক নয় সাত’, ‘একদা দ্বীবাসিনী’, ‘এই সব অসরীরি ছবি’, ‘ক্রান্তিকালের ছায়ায়’ এবং শিশুতোষ গ্রন্থ ‘একটি ফুলের জন্য’ ও ‘পানিতে কখনো আগুন লাগে’।.

বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ, নজরুল একাডেমি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদসহ বিভিন্ন শিক্ষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন। সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ পদক, কমর মুস্তারী পদক, বাংলা সাহিত্য পরিষদ পদক, সাজিদুন্নেসা খাতুন চৌধুরানী সাহিত্য পদক এবং গুণীজন সংবর্ধনাসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হন।.

বাংলা সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় দীর্ঘ অবদান রেখে ২০০৯ সালের ৩ এপ্রিল ঢাকায় নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর সাহিত্যকর্ম, সাংস্কৃতিক অবদান এবং প্রগতিশীল চিন্তাধারা আজও পাঠকসমাজে সমাদৃত। বগুড়ার এই কৃতী সাহিত্যিক বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।.

লেখা : এমএসটি বিউটি আক্তার
ছবি কৃতজ্ঞতায়: মাহফুজ উর রহমান
এডিটেড এন্ড রেস্টোর্ড: আজকের বগুড়া .

 . .

Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ

স্মরণীয় ও বরণীয় বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ