বাংলাদেশের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতে আস্থা, নির্ভরযোগ্যতা ও আধুনিক চিকিৎসাসেবার নামগুলোর মধ্যে অন্যতম পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার। আর এই প্রতিষ্ঠানের পেছনে যাঁর দূরদর্শিতা, পরিশ্রম ও সাহসী উদ্যোক্তা-মানসিকতা কাজ করেছে, তিনি বগুড়ার কৃতি সন্তান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান।.
১৯৫৩ সালের ১ নভেম্বর বগুড়ার সারিয়াকান্দী উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁর বাবা প্রয়াত ডা. মনির উদ্দিন মণ্ডল ছিলেন একজন খ্যাতিমান চিকিৎসক ও সমাজসেবক। পারিবারিক পরিবেশ থেকেই মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগের অনুপ্রেরণা পান তিনি।.
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জনের পর চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কেন্দ্রীয় প্যাথলজি বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উপলব্ধি করেন, দেশে আধুনিক ও নির্ভুল রোগ নির্ণয় সেবার ব্যাপক প্রয়োজন রয়েছে।.
এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ১৯৮৩ সালের জুন মাসে প্রতিষ্ঠা করেন পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার। অল্প পরিসরে শুরু হওয়া সেই প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে মানুষের আস্থা অর্জন করে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিস্তৃত শাখা নিয়ে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি রোগ নির্ণয় সেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।.
ডা. মোস্তাফিজুর রহমান শুধু ডায়াগনস্টিক সেবাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। তাঁর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস, পপুলার স্পেশালাইজড হাসপাতাল, পপুলার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালসহ পপুলার গ্রুপের একাধিক প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে তিনি পপুলার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।.
চিকিৎসা, ওষুধ শিল্প, হাসপাতাল পরিচালনা এবং চিকিৎসা শিক্ষার সমন্বয়ে তিনি দেশের স্বাস্থ্যখাতে একটি শক্তিশালী অবকাঠামো গড়ে তুলেছেন। তাঁর নেতৃত্বে পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও ওষুধ রপ্তানি করছে।.
বর্তমানে ৭২ বছর বয়সী এই সফল উদ্যোক্তা শুধু ব্যবসায়িক সাফল্যেই সীমাবদ্ধ নন। তিনি বিভিন্ন সামাজিক, গবেষণা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। গবেষণার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। শিল্প ও স্বাস্থ্যখাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি সরকারের বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) সম্মাননাও অর্জন করেছেন।.
বগুড়ার সন্তান হিসেবে ডা. মোস্তাফিজুর রহমান আজ দেশের লাখো তরুণের জন্য অনুপ্রেরণার নাম। তাঁর সাফল্যের গল্প প্রমাণ করে, একটি জেলার মেধা, সততা ও দূরদর্শিতা শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, একটি দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকেও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। বগুড়ার মানুষও গর্বের সঙ্গে তাঁকে নিজেদের কৃতি সন্তান হিসেবে স্মরণ করেন।. .
Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ
আপনার মতামত লিখুন: