• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

বগুড়ায় অটোরিকশার দাপট, প্রতিদিন ভাড়ায় যাচ্ছে কোটি কোটি টাকা


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০:৩৩ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বগুড়া শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের ব্যয়ও বাড়ছে। বিভিন্ন এলাকার মানুষের চলাচলের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠা অটোরিকশায় প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা ভাড়া বাবদ ব্যয় হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের হিসাবে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত অটোরিকশার কারণে শহরের যানজট, বিদ্যুতের ওপর চাপ এবং আশপাশের এলাকায় কৃষিশ্রমিক সংকট নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশের একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া শহর ও আশপাশে বর্তমানে ৬০ হাজারের বেশি অটোরিকশা চলাচল করছে। একজন চালক প্রতিদিন গড়ে ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করেন। এই হিসাবে অটোরিকশা খাত থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হচ্ছে।শহরের বিভিন্ন সড়কে অটোরিকশার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় স্বল্প দূরত্বের পথেও অনেক মানুষ হাঁটার পরিবর্তে রিকশা ব্যবহার করছেন। এতে যাত্রীদের যাতায়াত ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি সড়কে যানবাহনের চাপও বাড়ছে। বিশেষ করে ব্যস্ত এলাকাগুলোতে অটোরিকশার আধিক্য যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।বগুড়ার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ব্যবসা-বাণিজ্যের কারণে প্রতিদিন আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ শহরে আসেন। তাদের একটি অংশ অটোরিকশা চালানোর পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। কেউ গ্যারেজ থেকে রিকশা ভাড়া নিয়ে চালাচ্ছেন, আবার কেউ এনজিও বা বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঋণ নিয়ে অটোরিকশা কিনে রাস্তায় নামাচ্ছেন।অটোরিকশা চালিয়ে দৈনিক ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা আয়ের সুযোগ থাকায় বেকার ও কর্মহীন অনেক মানুষ কৃষিকাজসহ অন্যান্য শ্রমনির্ভর পেশা ছেড়ে এ পেশায় আসছেন। এর প্রভাব পড়ছে কৃষি খাতেও। বগুড়ার পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় কৃষিকাজের সময় প্রয়োজনীয় শ্রমিক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। এতে কৃষির উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি গ্রামীণ শ্রমবাজারেও ভারসাম্যহীনতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।অন্যদিকে, বিপুলসংখ্যক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চার্জ দিতে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, শহরের কিছু গ্যারেজে অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার জন্য অবৈধ বৈদ্যুতিক সংযোগও ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।অর্থনীতিবিদ ও সচেতন নাগরিকদের একটি অংশ মনে করছেন, অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর নীতিমালা প্রয়োজন। তাদের মতে, শহরের সড়কের ধারণক্ষমতা, যানজট পরিস্থিতি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অটোরিকশার সংখ্যা নির্ধারণ করা যেতে পারে।এ ছাড়া নতুন অটোরিকশা আমদানি ও যন্ত্রাংশের বাজার নিয়ন্ত্রণ, খুচরা যন্ত্রাংশের দোকানে নজরদারি এবং নির্দিষ্ট এলাকায় অটোরিকশার জন্য সীমা নির্ধারণের মতো পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন অনেকে। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অটোরিকশাচালকদের জীবিকা এবং সাধারণ মানুষের সহজ যাতায়াতের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।অটোরিকশা খাতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করা গেলে একদিকে শহরের যানজট কমানো, অন্যদিকে বিদ্যুতের ওপর চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষি খাতে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা।.

.

Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ

খোলা-কলাম বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ