.
বগুড়ার গ্রামীণ হাট-বাজারগুলোকে আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব করতে সরকারি খাস জমিতে নির্মাণ করা হচ্ছে দুইতলা বিপণি ভবন। প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে জেলার দুপচাঁচিয়া, কাহালু ও শাজাহানপুর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে এসব ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।.
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন গ্রামীণ বাজার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় জামুন্না হাট, তালুচহাট, ধাপের হাট, কাহালু পৌর হাট-বাজার ও মালঞ্চা হাটে বিপণি ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। কয়েকটি ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। অধিকাংশ ভবন আগামী অক্টোবরের মধ্যে হস্তান্তরের লক্ষ্য রয়েছে।.
প্রকল্প অনুযায়ী, ভবনের নিচতলা উন্মুক্ত রাখা হচ্ছে। সেখানে মাছ, মাংস, মুরগি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার বসানোর ব্যবস্থা থাকবে। আর ওপরের তলায় তৈরি করা হচ্ছে পৃথক দোকানঘর। এসব দোকানে হার্ডওয়্যার, কসমেটিকস, পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসার সুযোগ থাকবে।.
শাজাহানপুর উপজেলার জামুন্না হাটে ২ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে দুইতলা ভবন। এতে ওপরের তলায় রয়েছে ১৬টি দোকানঘর। দুপচাঁচিয়ার তালুচহাটে ২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনে ২২টি দোকান এবং ধাপের হাটে ৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনে পৃথক দোকানঘর রাখা হয়েছে।.
কাহালুর দুর্গাপুর হাটে ২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিপণি ভবনের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ভবনটির ওপরের তলায় রয়েছে ১৫টি দোকান। এছাড়া কাহালু পৌর হাট-বাজারে ১ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৪টি দোকানঘর এবং মালঞ্চা হাটে ২ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে আরও ১৪টি দোকানঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।.
এলজিইডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর হাট-বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী দোকান বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রয়োজনে লটারির মাধ্যমে যোগ্য আবেদনকারীদের মধ্যে দোকান বরাদ্দ হতে পারে। প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছরের জন্য নির্ধারিত সালামি ও মাসিক ভাড়ার ভিত্তিতে অস্থায়ী বরাদ্দ দেওয়ার বিধান রয়েছে।.
বিপণি ভবন নির্মাণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এবং সংশ্লিষ্ট হাটে আগে থেকে ব্যবসা পরিচালনাকারীরা দোকান বরাদ্দে অগ্রাধিকার পাবেন। পাশাপাশি নির্দিষ্ট কোটার ভিত্তিতে মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধার পোষ্য বা জুলাই যোদ্ধা, নারী উদ্যোক্তা, প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য দোকান বরাদ্দের সুযোগ রাখা হয়েছে। শিল্প, সাহিত্য, সংগীত, সমাজসেবা, শিক্ষা, ক্রীড়া বা বিশেষ ক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যক্তি কিংবা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্যও নির্দিষ্ট কোটা থাকবে।.
তবে বরাদ্দ পাওয়া দোকানের মালিকানা ব্যবসায়ীদের দেওয়া হবে না। খাস জমিতে নির্মিত এসব বিপণি ভবনের মালিকানা সরকারের কাছেই থাকবে এবং জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হবে।.
নতুন বিপণি ভবনগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, সুপেয় পানি, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, নারী কর্নার, পার্কিং, নামাজের স্থান এবং নারী-পুরুষের জন্য পৃথক শৌচাগারসহ বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।.
সংশ্লিষ্টদের আশা, এসব আধুনিক বিপণি ভবন চালু হলে গ্রামীণ হাট-বাজারের পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে এসব স্থাপনা ভূমিকা রাখবে।. .
Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ
আপনার মতামত লিখুন: