• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ০৫ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

নওগাঁয় পুলিশের লাথিতে আসামির বাবার মৃত্যু—পরিবারের অভিযোগ


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৮:৫৪ পিএম
নওগাঁয় পুলিশের লাথিতে আসামির বাবার মৃত্যু—পরিবারের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

নওগাঁর মহাদেবপুরে পুলিশের লাথির আঘাতে আব্দুল হামিদ ধলা (৬৬) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৪ মার্চ) মধ্যরাতে উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের মালাহার উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।.

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে মহাদেবপুর থানার এসআই আসাদুজ্জামান ও এএসআই আছির উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে আব্দুল হামিদের ছেলে এমরান হোসেনকে আটক করতে মালাহার উত্তরপাড়া গ্রামে অভিযান চালান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এমরান হোসেন পালিয়ে যান। তাকে না পেয়ে পুলিশ তার বাবা আব্দুল হামিদকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলে পরিবারের অভিযোগ। এ সময় বাড়ির দরজা ভাঙচুর করা হয় বলেও দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।.

এ সময় আব্দুল হামিদের বৃদ্ধা মা হালিমা বেওয়া (৮৫) ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করে পুলিশের পা ধরলেও পুলিশ তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।.

আব্দুল হামিদের নাতি রিপন (১২) জানায়, সে তার দাদার সঙ্গে একই ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। গভীর রাতে পাঁচজন পুলিশ এসে তার দাদাকে জোর করে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে পুলিশ তার দাদাকে লাথি মারলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেও আবার পড়ে যান এবং সেখানেই মারা যান বলে দাবি করে রিপন।.

নিহতের মা হালিমা বেওয়া বলেন, “ছেলেকে ছেড়ে দিতে আমি পুলিশের পা ধরেছিলাম। কিন্তু তারা আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।”.

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আব্দুল হামিদ সহজ-সরল মানুষ ছিলেন এবং তার নামে কোনো মামলা বা অভিযোগ নেই। ছেলে এমরান হোসেনকে পালাতে সহায়তা করার অভিযোগে পুলিশ তাকে আটক করার চেষ্টা করে। এ সময় লাথি মারার পরই তিনি মারা যান বলে তারা দাবি করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলেও তাদের অভিযোগ।.

একই গ্রামের মৃত ধলা বক্সের ছেলে এসলাম জানান, রাত প্রায় একটার দিকে পুলিশ তার বাড়িতে গিয়ে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করে। তবে পরিচয়পত্রে নামের বানানের অমিল থাকায় পুলিশ তাকে আদালত থেকে জামিন নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে ছেড়ে দেয়। তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার সময় স্থানীয় বিএনপির দুই নেতা—মালাহার পূর্বপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে ওয়ার্ড বিএনপির সম্পাদক জহুরুল ইসলাম এবং আফাজ মাস্টারের ছেলে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিরাতুন মাস্টার পুলিশের সঙ্গে ছিলেন এবং তাদের ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।.

তবে জহুরুল ইসলাম ও সিরাতুন মাস্টার এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার সময় তারা পুলিশের সঙ্গে ছিলেন না।.

এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “পুলিশ আসামি ধরতে গিয়েছিল ঠিকই। তবে নামের মিল না থাকায় আসামি এসলামকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্য আসামি এমরান হোসেনের বিরুদ্ধে চুরি ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাকে না পেয়ে আরেক আসামি আসলামের বাড়ি দেখানোর জন্য আব্দুল হামিদকে ডাকা হয়েছিল। এ সময় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পুলিশ তাকে কোনো আঘাত করেনি।”.

জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “আব্দুল হামিদ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”. .

Ajker Bogura / তাহমিদ জাওয়াদ

শোক সংবাদ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ