তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একজন সাধারণ মানুষ হয়েও নিজের অসাধারণ ইচ্ছাশক্তি ও ঈমানের দৃঢ়তায় তিনি হয়ে উঠেছিলেন সবার অনুপ্রেরণার প্রতীক।.
প্রায় ২০ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারান আব্দুর রহমান মোল্লা। কিন্তু এই বড় সীমাবদ্ধতা তাকে থামাতে পারেনি। বরং হজ পালন শেষে নিজ গ্রামের বাড়ির পাশে প্রায় ৫ শতাংশ জমির ওপর একটি পাকা মসজিদ নির্মাণ করেন এবং নিজেই সেই মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।.
তবে মসজিদে যাতায়াত ছিল তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বাড়ি থেকে মসজিদের দূরত্ব প্রায় ২০০ মিটার হওয়ায় অন্ধ অবস্থায় একা চলাচল করা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তখনই তিনি নিজেই এক অভিনব সমাধান বের করেন—বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত দড়ি ও বাঁশ টানিয়ে একটি পথ তৈরি করা।.
তার ছেলেরা সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন। প্রথম দিকে ছেলে ও নাতিরা তাকে দড়ি ধরে হাঁটার অভ্যাস করান এবং হাতে একটি লাঠি দিয়ে পথ চিনিয়ে দেন। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিনি নিজেই দড়ি ও বাঁশের সাহায্যে নিরাপদে মসজিদে যাতায়াত করতে সক্ষম হন।.
এভাবেই জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আজান দিতে নিয়মিত মসজিদে যেতেন। বয়স, অন্ধত্ব কিংবা দূরত্ব—কোনো কিছুই তার ইবাদতের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।.
আব্দুর রহমান মোল্লার জীবন সংগ্রাম, ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তার মৃত্যুতে শুধু পরিবার নয়, পুরো এলাকাবাসী হারালো একজন অনন্য মানুষকে—যিনি আমাদের শিখিয়ে গেছেন, দৃঢ় মনোবল থাকলে জীবনের কোনো বাধাই অতিক্রম করা অসম্ভব নয়।. .
Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ
আপনার মতামত লিখুন: