• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৩ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

বগুড়ার ফতেহ আলী ব্রিজ: ফুটপাথ ও রাস্তা দখলে নাকাল জনজীবন, জরুরি উচ্ছেদ


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:০৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত ( বাপ্পি ক্যাম )

ফতেহ আলী ব্রিজ: উন্নয়নের পরও জনদুর্ভোগের নতুন অধ্যায়.

বগুড়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ স্থাপনা নতুন ফতেহ আলী ব্রিজ নির্মাণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের আশা পূরণ হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। সেতুটি চালু হওয়ার পরও আশপাশের এলাকায় শৃঙ্খলার অভাবে প্রতিদিন সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ যানজট। স্থানীয়দের অভিযোগ—উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষ ভোগ করতে পারছে না, বরং অব্যবস্থাপনার কারণে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।.

হকারদের দখলে ফুটপাথ: হাঁটার জায়গা নেই পথচারীদের.

ব্রিজের দুই পাশের ফুটপাথ এখন অনেকাংশে হকারদের দখলে। অস্থায়ী দোকান, ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা এবং নানা ধরনের স্টল বসিয়ে পুরো ফুটপাথই ব্যবহার করা হচ্ছে বাণিজ্যিকভাবে। এতে পথচারীদের হাঁটার জায়গা না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে মূল সড়কে নামছেন, যা যান চলাচলে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করছে।.

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান না থাকায় হকাররা দিন দিন আরও সংগঠিতভাবে ফুটপাথ দখল করছে।.

অটো রিকশা ও অবৈধ পার্কিংয়ে রাস্তার সংকট.

ফতেহ আলী ব্রিজ এলাকায় আরেকটি বড় সমস্যা হলো অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের অবৈধ দাঁড়ানো ও পার্কিং। নির্ধারিত স্ট্যান্ড না থাকায় চালকরা যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করছেন। ফলে সরু হয়ে আসছে রাস্তা, তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।.

বিশেষ করে সকাল ও বিকেলের ব্যস্ত সময়ে এই যানজট ভয়াবহ রূপ নেয়, যেখানে কয়েক মিনিটের পথ পার হতে সময় লাগে অনেক বেশি।.

শৃঙ্খলার অভাবে জনদুর্ভোগ চরমে.

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ব্রিজটি নতুনভাবে নির্মিত হলেও এর আশপাশে কোনো কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নেই। হকার, যানবাহন, পথচারী—সব মিলিয়ে এক ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি সেবা ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে।.

স্থানীয়দের দাবি: দখলমুক্ত করাই একমাত্র সমাধান.

ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হলে ফুটপাথ ও সড়ক দখলমুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি হকারদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ, অটোরিকশার জন্য আলাদা স্ট্যান্ড তৈরি এবং নিয়মিত ট্রাফিক মনিটরিং চালু করা জরুরি।.

অনেকে মনে করেন, শুধুমাত্র অভিযান নয়, টেকসই পরিকল্পনা ছাড়া এই সমস্যা বারবার ফিরে আসবে।.

প্রশাসনের প্রতি আহ্বান.

স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন—ফতেহ আলী ব্রিজ ও এর আশপাশ এলাকায় দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হোক। পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা না হলে এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি জনদুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হবে।.

শেষ কথা.

উন্নয়ন তখনই সফল হয়, যখন তা সাধারণ মানুষের জীবন সহজ করে। কিন্তু বগুড়ার ফতেহ আলী ব্রিজের বর্তমান চিত্র বলছে ভিন্ন কথা—অব্যবস্থাপনা ও দখলদারিত্ব যদি এখনই নিয়ন্ত্রণ না করা হয়, তবে এই নতুন সেতুও হয়ে উঠবে আরেকটি যানজটের কেন্দ্রবিন্দু।.

স্টাফ রিপোর্টার: সামছিল আরিফিন . .

Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ

সম্পাদকীয় বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ