• ঢাকা
  • সোমবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৮ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

বগুড়া মহাস্থানগড় এখন কুসংস্কার ও বিশৃঙ্খলার আখড়া, মান্নতের নামে দুধ ঢালা, মাদক সেবন


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১:৪৬ এএম
ছবি : নিজস্ব প্রতিনিধি
ছবি : নিজস্ব প্রতিনিধি

বগুড়ার ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান মহাস্থানগড় একসময় ছিল ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন দেখতে এবং ইতিহাস সম্পর্কে জানতে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ঐতিহ্যবাহী স্থানটি নানা অনিয়ম, কুসংস্কার ও সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে সমালোচনার মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল।.

মহাস্থানগড় এলাকার একটি মাজারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে কিছু কুসংস্কারমূলক কর্মকাণ্ড চলে আসছে বলে জানা যায়। অনেক মানুষ মান্নত বা মনের আশা পূরণের উদ্দেশ্যে সেখানে দুধ ঢেলে দেন, টাকা-পয়সা, ছাগল, মুরগি ইত্যাদি উৎসর্গ করেন। কেউ কেউ বিশ্বাস করেন, এসব করলে তাদের ইচ্ছা পূরণ হবে। তবে সচেতন মহলের দাবি, এসব কর্মকাণ্ড ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এগুলো ধীরে ধীরে অন্ধবিশ্বাসে রূপ নিচ্ছে। ধর্মপ্রাণ মানুষের আবেগকে ব্যবহার করে একটি শ্রেণি সুবিধা নিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।.

এছাড়াও মাজারকেন্দ্রিক এলাকায় প্রকাশ্যে ভিক্ষাবৃত্তি ও মাদকসেবনের মতো ঘটনাও প্রায়ই চোখে পড়ে বলে জানিয়েছেন দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে গাঁজা সেবনের অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটকরা অনেক সময় বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। ঐতিহাসিক একটি স্থানে এমন পরিবেশ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন অনেকে।.

পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগও নতুন নয়। যানবাহন পার্কিং, বিভিন্ন স্থানে প্রবেশ কিংবা ছোটখাটো সেবার নাম করে অনেক সময় নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। অথচ সেই তুলনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে পর্যাপ্ত মনে করেন না দর্শনার্থীরা। বিভিন্ন সময় ছিনতাই, হয়রানি, ইভটিজিং এমনকি নারী নির্যাতনের অভিযোগও সামনে এসেছে, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।.

স্থানীয়দের মতে, মহাস্থানগড় শুধু বগুড়ার নয়, পুরো বাংলাদেশের গর্ব। তাই এই ঐতিহাসিক স্থানের সৌন্দর্য, মর্যাদা ও নিরাপদ পরিবেশ রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। তারা মনে করেন, প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি, নিরাপত্তা জোরদার, কুসংস্কারবিরোধী সচেতনতা এবং মাদক ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।.

সচেতন নাগরিকরা আশা করছেন, সরকার ও প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, যাতে মহাস্থানগড় আবারও তার ঐতিহাসিক মর্যাদা ও সৌন্দর্য ফিরে পায় এবং দেশ-বিদেশের পর্যটকদের জন্য একটি নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।. .

Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ

সম্পাদকীয় বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ