প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করেছি। সকলেই নিজের মতো করে মন্তব্য করেছেন। কেউ বলছেন বিএনপিকে জিতিয়ে দেওয়া হয়েছে, কেউ বলার চেষ্টা করছেন জামায়াতের দাবি মেনে নিয়ে তিনি উচ্চকক্ষে পিআর সিস্টেম রেখেছেন, আবার কেউ বলছেন অশ্বডিম্ব।.
আমি মনে করি দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ তাঁর ছিল না। ডক্টর ইউনুস তো জোর করে ক্ষমতা দখল করেননি। আপনারাই তাঁকে ডেকে এনেছিলেন, সহযোগিতার আশ্বাসবাণী দিয়েছিলেন, তারপর যতভাবে একটা মানুষকে পেছন থেকে টেনে ধরা যায় সব চেষ্টাই করেছেন অত্যন্ত সচেতনভাবে। তিনি যাতে কাজ করতে না পারেন সেজন্য হাসিনার রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করতে দিলেন না, যার ফলে সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণও কার্যকরভাবে ইউনুস সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকলো না। সামরিক বাহিনীর প্রভাবে সিভিল প্রশাসন প্রভাবিত হলো, সরকারের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড গতি হারালো। হাত-পা বাঁধা অবস্থায় কতক্ষণ সাঁতরানো যায়?.
এমন একটি অবস্থার মধ্যে থেকে তিনি যা করেছেন, যা করতে পেরেছেন সেজন্য অবশ্যই তাঁকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত।.
জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট নিয়ে যারা উষ্মা প্রকাশ করছেন তারা ভাবছেন এই গণভোট দিয়ে কোন কাজ হবেনা। কোন বিষয়ে মন্তব্য করার আগে বিষয়টি বুঝতে হবে।.
আমি বলেছিলাম বিএনপির 'না' অবশ্যই 'হ্যাঁ'তে রূপান্তরিত হবে, কারণ 'না' ভোট দিয়ে তাদের বাঁচার কোন উপায় নেই। যদি কোন কারণে 'না' জয়যুক্ত হয় তাহলে জুলাই সনদ অকার্যকর। জুলাই সনদ অকার্যকর হলে নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার ক্ষমতায় আসবে তাদেরও বৈধতা থাকবেনা। অর্থাৎ, যতোই চাপাচাপি করো জুলাই সনদ মানতেই হবে।.
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে পুরোপুরি না হলেও দেশের মানুষ অবশ্যই এর ফল পাবে। আমরা যেহেতু জাতিগতভাবেই স্বার্থপর, ক্ষমতালোভী এবং পরশ্রীকাতর, আমরা অন্যের ভাল দেখতে চাই না, সবসময়ই নিজেদের আধিপত্য চাই, সেহেতু রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়। আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন দরকার, মানবাধিকার এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় উন্নত চিন্তা করা প্রয়োজন। আত্মকেন্দ্রিক চিন্তাভাবনার প্রভাব থেকে বের হতে পারলে তখন আর এতো আইনকানুন লাগবেনা, বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকেই পরিবর্তন সম্ভব।. .
Ajker Bogura / Md.Showrov Hossain
আপনার মতামত লিখুন: