বগুড়ার মোহাম্মদ আলী সরকারি হাসপাতাল চত্বরে প্রবেশ করলে মনে হয়, এটি কোনো হাসপাতালের আঙিনা নয়, বরং পরিত্যক্ত ভাগাড়। যেখানে রোগীর সেবা পাওয়ার কথা, সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কোটি কোটি টাকার সরকারি চিকিৎসা সরঞ্জাম। অযত্ন ও অবহেলায়, বৃষ্টির পানিতে ভিজে এগুলো জং ধরে ধ্বংস হচ্ছে—এটি সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের অপচয়।
হাসপাতালের পেছনের খোলা অংশে স্তূপ করা হয়েছে শত শত লোহার বেড, ট্রলি, আলমারি ও দামী চিকিৎসা সরঞ্জাম। দীর্ঘদিন এমন অবস্থায় থাকায় অনেকগুলো জং ধরে নষ্ট হচ্ছে, কিছু মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, “কর্তৃপক্ষ যেন কাঠের চশমা পরে আছে—সবই তাদের চোখে পড়ছে না।”
বর্তমান সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ তুঙ্গে, অথচ হাসপাতালের এই নোংরা পরিবেশ এডিস মশার আদর্শ প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা বলছেন, সুস্থ হয়ে ফেরার পরিবর্তে মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে গেছে।
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—এই দায় কার? কোটি টাকার সরকারি সম্পদ এভাবে নষ্ট হওয়া জনগণের কাছে ‘দুর্নীতি’ এবং ‘চরম অবহেলা’ হিসেবে ধরা হচ্ছে। কেন এগুলো সংস্কার করা হচ্ছে না, অথবা নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে টাকা জমা দেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি তুলেছেন—অনতিবিলম্বে হাসপাতালের পরিত্যক্ত অংশটি পরিষ্কার করা হোক, এবং ব্যবহারযোগ্য সরঞ্জামগুলো দ্রুত সংস্কার করে জনগণের সেবায় ফিরিয়ে আনা হোক। নতুবা এই অবহেলার দায়ভার সংশ্লিষ্ট কাউকেই নিতে হবে।
উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার দিক থেকে এটি শুধু বগুড়ার নয়, সমগ্র দেশের জনগণের জন্য সতর্কবার্তা। ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সরকারী দায়িত্বশীলতা এখনই জরুরি।.
Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ
আপনার মতামত লিখুন: