দীর্ঘদিনের যানজট ও নগর পরিকল্পনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বগুড়া শহরের বিদ্যমান রেললাইন ও রেলস্টেশন স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্মাণাধীন বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র রাণীরহাট জংশনকেই নতুন ‘বগুড়া স্টেশন’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।.
বর্তমানে বগুড়া শহরের মাঝ দিয়ে চলে যাওয়া রেললাইন এবং একাধিক লেভেল ক্রসিংয়ের কারণে যান চলাচলে প্রায়ই সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। বিশেষ করে সাতমাথা, বনানী, স্টেশন রোড ও আশপাশের এলাকায় ট্রেন চলাচলের সময় যানবাহন আটকে থাকায় নগরবাসীকে ভোগান্তি পোহাতে হয়। এ পরিস্থিতি থেকে নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে এবং আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে রেলস্টেশন স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।.
রেলওয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ নতুন রেলপথের রাণীরহাট এলাকায় একটি আধুনিক জংশন স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এই জংশনের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হবে। একই সঙ্গে মালামাল পরিবহন, যাত্রীসেবা এবং ভবিষ্যৎ রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।.
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন স্টেশন চালু হলে শহরের ভেতরে রেললাইনজনিত যানজট অনেকাংশে কমে আসবে। পাশাপাশি স্টেশনকেন্দ্রিক নতুন বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকা গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও তৈরি হবে। ফলে রাণীরহাট অঞ্চল অর্থনৈতিকভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।.
তবে স্টেশন স্থানান্তর নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ শহরের যানজট কমার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে শহরকেন্দ্রিক যাত্রীসেবার সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।.
রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষ হলে রাণীরহাট জংশনকে কেন্দ্র করেই উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেল যোগাযোগ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বগুড়ার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।. .
Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ
আপনার মতামত লিখুন: