বগুড়াকে কেন্দ্র করে নতুন বিভাগ গঠনের আলোচনা যত এগোচ্ছে, ততই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তর্ক-বিতর্ক। বিশেষ করে নওগাঁ ও গাইবান্ধার অনেক বাসিন্দা প্রকাশ্যে জানাচ্ছেন, তারা যথাক্রমে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সঙ্গেই থাকতে চান। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এ নিয়ে পোস্ট, ভিডিও ও মতামত ছড়িয়ে পড়েছে। অন্যদিকে বগুড়াবাসীর বড় একটি অংশ মনে করছেন, উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের স্বার্থে বগুড়াকে বিভাগ করা সময়ের দাবি। সাম্প্রতিক সময়ে গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য বগুড়া বিভাগের পক্ষে মত দিয়েছেন বলেও বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনা রয়েছে। তবে এটি পুরো জেলার জনমতকে প্রতিনিধিত্ব করে কি না, সে প্রশ্নও উঠেছে।.
বগুড়া দীর্ঘদিন ধরেই উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা ও চিকিৎসা কেন্দ্র। ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগের কেন্দ্র, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের বিস্তার—সব মিলিয়ে বগুড়ার গুরুত্ব অনেক বেশি। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বগুড়া সিটি কর্পোরেশন গঠন, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগসহ একাধিক প্রশাসনিক সম্প্রসারণ বগুড়ার গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।.
বগুড়াকে বিভাগ করার পক্ষে সাধারণত যে যুক্তিগুলো তুলে ধরা হয়—.
নওগাঁর অনেক মানুষ মনে করেন, তাদের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক সম্পর্ক রাজশাহীর সঙ্গে বেশি। একইভাবে গাইবান্ধার অনেক বাসিন্দার মতে, রংপুর বিভাগের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ও পরিচিতি দীর্ঘদিনের। তাই তারা বিভাগ পরিবর্তনের পক্ষে নন।.
এটি গণতান্ত্রিক সমাজে স্বাভাবিক মতভেদ। কোনো জেলার মানুষ যদি মনে করেন তারা বর্তমান বিভাগেই থাকতে চান, তবে সেই মতামতও গুরুত্ব পাওয়া উচিত।.
বিভাগ গঠন বা কোনো জেলা নতুন বিভাগে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত এককভাবে কোনো ব্যক্তি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা একটি রাজনৈতিক মতের ভিত্তিতে হয় না। এ ধরনের সিদ্ধান্ত সরকার, প্রশাসনিক কমিশন, মন্ত্রিসভা এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের মতামতও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।.
বগুড়া বিভাগ হওয়ার দাবির পক্ষে শক্তিশালী প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক যুক্তি রয়েছে। একই সঙ্গে নওগাঁ বা গাইবান্ধার জনগণ যদি তাদের বর্তমান বিভাগেই থাকতে চান, সেটিও গণতান্ত্রিক অধিকার।.
অতএব, বিষয়টিকে "বগুড়া বনাম নওগাঁ" বা "বগুড়া বনাম গাইবান্ধা" হিসেবে দেখার পরিবর্তে জনমত, প্রশাসনিক বাস্তবতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন—এই পাঁচটি বিষয়কে সামনে রেখেই সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত।.
শেষ পর্যন্ত, নতুন বিভাগ গঠনের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত কোনো জেলার মর্যাদা বাড়ানো নয়; বরং মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত প্রশাসনিক সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং দেশের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা।.
Ajker Bogura / সামসিল আরিফিন
আপনার মতামত লিখুন: