রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন—এ প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত বিষয়। সংবিধান অনুযায়ী তার স্থলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে সংবিধানের বিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীন বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক অঙ্গন ও দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে চারটি নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে। তারা হলেন—বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান এবং বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম নাসিমুল গণি।.
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর.
সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং দলের কঠিন সময়ে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত।.
ঠাকুরগাঁও থেকে উঠে আসা এই নেতা ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকারের কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর দলের দুঃসময়ে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০১৬ সালে বিএনপির কাউন্সিলে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব করা হয়। এরপর থেকে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক কৌশল এবং সরকারের বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।.
দলীয় সূত্রের দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করার ইতিহাস এবং গ্রহণযোগ্যতার কারণে তাকে রাষ্ট্রপতি পদে বিবেচনা করা হতে পারে।.
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন.
রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় থাকা আরেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।.
রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। পরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ধীরে ধীরে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উঠে এসে স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।.
তিনি বিভিন্ন সময়ে জ্বালানি, স্বরাষ্ট্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রশাসনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কারণে রাষ্ট্রপতি পদে তার নামও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।.
ড. আবদুল মঈন খান.
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানও সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতির তালিকায় রয়েছেন। তিনি নরসিংদী-২ আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার বাবা ছিলেন দেশের সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য।.
রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি ভদ্র, মিষ্টভাষী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতা হিসেবে পরিচিত। অতীতে তিনি সফলতার সঙ্গে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তাকে মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করা হলেও এখন পর্যন্ত তিনি মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। এ কারণে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, তাকে রাষ্ট্রপতি পদে বিবেচনা করা হতে পারে।.
এম নাসিমুল গণি.
রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম নাসিমুল গণির নামও। তিনি দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ আমলা এবং বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ১৯৮২ ব্যাচের কর্মকর্তা।.
তিনি অতীতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের গণবিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের ২৬তম মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।.
দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন এবং নিরপেক্ষ প্রশাসনিক পরিচয়ের কারণে তার নামও সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে।.
৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন.
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। সে অনুযায়ী আগামী ৯০ দিনের মধ্যেই জাতীয় সংসদে ভোটের মাধ্যমে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা।.
তবে এখন পর্যন্ত সরকার বা ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন নাম নিয়ে আলোচনা চললেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে দলীয় মনোনয়ন এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর।.
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন ও অর্থকাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদন।. .
Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ (সামসিল আরিফিন)
আপনার মতামত লিখুন: