বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে নেওয়া মিটার ভাড়া পুরোপুরি মওকুফ করতে সরকারের ২৯ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো গ্রাহক চাইলে নিজ খরচে মিটার কিনে নিতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে ওই গ্রাহককে আর মিটার ভাড়া দিতে হবে না। তিনি আরও জানান, ভুতুড়ে বিলসহ বিলিং-সংক্রান্ত সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের অধিকাংশ গ্রাহককে স্মার্ট প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে জরুরি ভিত্তিতে এইচএফওভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সর্বোচ্চ ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য সরকার ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। একই সঙ্গে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ থাকা ৬৬০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট চলতি সপ্তাহে চালুর আশা প্রকাশ করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, মেয়াদ শেষ হওয়া পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে কোনো ক্যাপাসিটি চার্জ ছাড়াই প্রায় ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য গত ২৪ মে অফশোর বিডিং রাউন্ড উন্মুক্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে ১০৬টি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৩০টির কাজ চলমান।আগামী দিনে গ্যাসের চাহিদা পূরণে চলতি বছরেই অন্তত দুটি নতুন এফএসআরইউ স্থাপনের চুক্তি করার পরিকল্পনা রয়েছে। মাতারবাড়ীতে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে।জ্বালানি তেল পরিশোধন সক্ষমতা বাড়াতে ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ বর্তমান সরকারের মেয়াদে শেষ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এতে পরিশোধন সক্ষমতা ১৫ লাখ থেকে বেড়ে ৪৫ লাখ মেট্রিক টন হবে।এ ছাড়া রুফটপ সোলার স্থাপনে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের ১ শতাংশ শুল্ক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ আগামী তিন বছর প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে সরকারের কাছে বিক্রির সুযোগও থাকবে।বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে অতিরিক্ত ১৫ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের কথাও সংসদে তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছর জ্বালানি পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি আসবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের জ্বালানি খাতে সংকট থাকবে না।.
Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ
আপনার মতামত লিখুন: