• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

একদিনের ঐতিহ্য, সারা বছরের বিভেদ: পান্তা-ইলিশে বৈশাখের আড়ালে বৈষম্যের গল্প


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:৩৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

একদিনের ঐতিহ্য, সারা বছরের বিভেদ: পান্তা-ইলিশে বৈশাখের আড়ালে বৈষম্যের গল্প

পহেলা বৈশাখ এলেই বাঙালির ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে পান্তা-ইলিশ। অথচ বছরের বাকি সময় এই পান্তা ভাত আর মাছ ভাজাকেই অনেকেই ‘গরিবের খাবার’ বলে অবহেলা করেন। যে খাবার সাধারণ দিনে ৫০ টাকায় অবহেলিত, সেটিই বৈশাখের দিনে হয়ে ওঠে ৬০০ টাকার ‘ঐতিহ্যবাহী বিলাসিতা’—এই বৈপরীত্যই যেন আমাদের সমাজের এক নগ্ন বাস্তবতা তুলে ধরে।.

রাজধানীর রমনা পার্ক, যেখানে একসময় পান্তা-ইলিশের অস্থায়ী দোকানে মুখর থাকত পুরো এলাকা, সেখানে এ বছর দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। নেই সেই চিরচেনা পসরা, নেই লোকজ আয়োজনের প্রাণচাঞ্চল্য। কেবল একটি স্থায়ী রেস্টুরেন্টে সীমাবদ্ধ পান্তা-ইলিশ, তাও চড়া দামে। ছোট এক টুকরো ইলিশ, সামান্য পান্তা ভাত আর এক টুকরো বেগুন ভাজি—এই সামান্য আয়োজনের মূল্য ৬০০ টাকা, যা অনেক সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।.

এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে বাস্তব কিছু কারণ—ইলিশের অভয়ারণ্যকালীন নিষেধাজ্ঞা, সরবরাহ সংকট এবং বাজারে উচ্চমূল্য। তবে এর বাইরেও উঠে এসেছে আরেকটি বড় প্রশ্ন—ঐতিহ্য কি কেবল একদিনের জন্যই? যদি তাই হয়, তবে সেটি কি সত্যিকারের সংস্কৃতি, নাকি কেবল একটি প্রদর্শনী?.

অনেকেই অভিযোগ করছেন, খোলা বাজারে অস্থায়ী দোকান না থাকায় সাধারণ মানুষের জন্য এই ঐতিহ্য উপভোগের সুযোগ সীমিত হয়ে গেছে। সন্তানদের আবদার রাখতে গিয়ে অনেক পরিবার বাধ্য হচ্ছেন অতিরিক্ত দামে পান্তা-ইলিশ কিনতে। ফলে একটি উৎসব, যা হওয়ার কথা ছিল সবার, সেটি ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির ভোগে।.

এই একদিনের উৎসব আমাদের মনে করিয়ে দেয়—আমরা হয়তো ঐতিহ্যকে ভালোবাসি, কিন্তু তা সমানভাবে ধারণ করি না। পান্তা-ইলিশ তখন আর কেবল খাবার থাকে না, হয়ে ওঠে সামাজিক বিভেদের প্রতীক। বৈশাখের চেতনা যদি হয় সমতা, শিকড়ের টান ও সাম্যের বার্তা, তবে সেই চেতনা বাস্তবে কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে—সেটিই আজ বড় প্রশ্ন।.

লেখা:- সামসিল আরিফিন. .

Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ (সামসিল আরিফিন)

সম্পাদকীয় বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ