• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ১৭ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

ঈদের বাজারে পকেটমারের দৌরাত্ম্য, আতঙ্কে বগুড়া


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:০২ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ঈদকে সামনে রেখে বগুড়া শহরের বিভিন্ন মার্কেটে জমে উঠেছে কেনাকাটা। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে মানুষ ভিড় করছে শপিংমল ও হাটবাজারে। তবে এই উৎসবমুখর পরিবেশের আড়ালে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ পকেটমার চক্র, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।.

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সামান্য অসাবধানতার সুযোগ নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছে নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান সামগ্রী। অনেক ক্ষেত্রে ঈদের কেনাকাটার পুরো বাজেটই খোয়া যাচ্ছে, ফলে আনন্দের মুহূর্ত পরিণত হচ্ছে হতাশা ও কান্নায়।.

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো ব্যক্তি এই চক্রের শিকার হচ্ছেন। মাঝে মাঝে জনতার হাতে আটক হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, গ্রেপ্তারের পরও অল্প সময়ের মধ্যেই তারা জামিনে বের হয়ে পুনরায় একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।.

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অপরাধ দণ্ডবিধির আওতায় শাস্তিযোগ্য হলেও দ্রুত বিচার ও কার্যকর নজরদারির অভাবে অপরাধীরা পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পায়। নিয়মিত টহল, সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।.

এদিকে জনমনে আরও উদ্বেগ তৈরি করেছে একটি অভিযোগ—পকেটমার চক্রের পেছনে প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি, তবে বিষয়টি তদন্তের দাবি রাখে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।.

পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ঈদকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। তবে নাগরিকদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে—বিশেষ করে ভিড়ের মধ্যে নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নিরাপদে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।.

সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাম স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে। তবে আইন অনুযায়ী, আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে অভিহিত করা যায় না—এ বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়েছেন আইনবিদরা।.

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, একটি শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।.

ঈদের আনন্দ নির্বিঘ্ন রাখতে এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ—প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত সচেতনতা। কারণ, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হলে উৎসবের আনন্দ সহজেই ভীতিতে পরিণত হতে পারে।.

.

Ajker Bogura / সামসিল আরিফিন

সম্পাদকীয় বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ