• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

শিশু যৌন নির্যাতনের পরিসংখ্যান উদ্বেগজনক, বেশি ঝুঁকিতে ৩–৬ বছরের শিশুরা


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৭:৪৭ এএম
ছবি : প্রতীকী
ছবি : প্রতীকী

দেশে শিশুদের প্রতি যৌন নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে ৩ থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুরা যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে বেশি রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত থাকছে ভুক্তভোগীর পরিচিত বা নিকটাত্মীয়রা।.

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসা ও সহায়তা নিতে আসা ভুক্তভোগীদের বড় একটি অংশই শিশু। ওসিসি সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে যৌন নির্যাতনের শিকার শিশুদের হার ৫০ শতাংশের বেশি।.

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৪৩১ জন। তাদের মধ্যে ২৬৪ জনই শিশু। অর্থাৎ এ সময়ে যৌন সহিংসতার শিকারদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যা নারীদের তুলনায় ৬১ শতাংশ বেশি।.

২০২৫ সালের একই সময়ে যৌন হয়রানির শিকার নারী ছিলেন ১৩০ জন এবং শিশু ২৬৯ জন।.

ওসিসিতে সেবা নিয়েছেন ৮১ হাজারের বেশি ভুক্তভোগী.

দেশের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার ও সেলের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৮১ হাজার ৯২৮ জন ভুক্তভোগীকে সেবা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪৯ হাজার ৭৬৭ জন শারীরিক নির্যাতনের শিকার, ৩১ হাজার ৫৯৬ জন যৌন নির্যাতনের শিকার এবং ৫৬৫ জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে সেবা নিয়েছেন।.

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসির ইনচার্জ ডা. তাইয়েবা সুলতানা জানিয়েছেন, গত সাত মাসে সেন্টারটি থেকে প্রায় ৩২৫ জন ভুক্তভোগীকে সেবা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৪৫০ জন বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন।.

তার মতে, শিশু যৌন নির্যাতনের ঘটনায় শুধু চিকিৎসা নয়, ভুক্তভোগী শিশু ও তার পরিবারের জন্য মনোসামাজিক কাউন্সেলিংও অত্যন্ত জরুরি।.

সেবা কার্যক্রমে জনবল সংকট.

তবে ওসিসির মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাকেন্দ্রগুলোও বর্তমানে জনবল ও অর্থসংকটে রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি না হওয়ায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অনেক কর্মী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। ফলে নার্স, আইনজীবী, মনোবিজ্ঞানী, ক্লিনার ও কম্পিউটার অপারেটরসহ প্রয়োজনীয় জনবলের উপস্থিতি কমে গেছে। এতে ভুক্তভোগীদের সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।.

নারী নির্যাতন প্রতিরোধে কুইক রেসপন্স টিমের (কিউআরটি) কার্যক্রম চালু হলেও সংশ্লিষ্টদের বেতন নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।.

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে শুধু ঘটনার পর চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি নিখোঁজ হয়ে যাওয়া শিশুদের বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো এবং শিশুদের জন্য বিশেষায়িত সেবা নিশ্চিত করাও জরুরি।.

শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওসিসির কার্যক্রমকে প্রকল্পনির্ভর না রেখে স্থায়ী ও শক্তিশালী কাঠামোর আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।.

.

Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ

অপরাধ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ