বিভিন্ন নাম আলোচনায় থাকলেও সবচেয়ে জোরালোভাবে উঠে এসেছে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা এবং সংকটকালীন নেতৃত্বের কারণে তিনি সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন।.
দলীয় ও রাজনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হতে পারে। দলটির একটি বড় অংশ মনে করছে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে এমন একজন ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন, যিনি অভিজ্ঞ, বিচক্ষণ, সৎ এবং জাতীয় ঐক্য রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। সেই বিবেচনায় মির্জা ফখরুলই সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বলে আলোচনা চলছে। যদিও এ বিষয়ে তিনি নিজে কোনো মন্তব্য করেননি।.
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের দুঃসময়ে রাজপথের আন্দোলন, মামলা-হামলা ও কারাবরণের মধ্যেও তিনি নেতৃত্ব ধরে রেখেছেন। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি এবং তারেক রহমানের দীর্ঘ প্রবাসজীবনের সময়ও দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। তার শান্ত, মার্জিত ও ভারসাম্যপূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থান তাকে দলীয় গণ্ডি ছাড়িয়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজেও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।.
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতির পদ কেবল আনুষ্ঠানিক নয়; জাতীয় সংকটের সময় এ পদধারীকে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। তাই একজন অভিজ্ঞ, বিচক্ষণ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিত্বের প্রয়োজন। তাদের মতে, মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা এবং কূটনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা তাকে এ পদের জন্য শক্তিশালী প্রার্থী করে তুলেছে।.
মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের শুরু শিক্ষকতা পেশা দিয়ে। তিনি শিক্ষা ক্যাডারে সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। পরে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন এবং ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।.
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে সততা, সাংবিধানিক জ্ঞান, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা। মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ না থাকা এবং ভিন্নমতের মানুষের কাছেও সম্মানিত হওয়ায় তার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।.
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশনারদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হবে। সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ফলে তফসিল ঘোষণার পরই শুরু হবে আনুষ্ঠানিক নির্বাচন প্রক্রিয়া।.
তবে এখন পর্যন্ত বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। ফলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে জোর আলোচনা থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে দলীয় সিদ্ধান্ত এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরুর পর।.
.
তথ্য সূত্র: কালবেলা . .
Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ
আপনার মতামত লিখুন: