যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেফতারের মাত্র একদিন পরই জামিন পেয়েছেন গায়ক আবু জাহিদ, যিনি জাহিদ অন্তু নামেই বেশি পরিচিত। এই ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে, যার প্রভাব বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। আদালতে আসামির পক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম জামিন আবেদন উপস্থাপন করেন এবং শুনানি পরিচালনা করেন। অন্যদিকে, বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দিন জামিনের বিরোধিতা করেন।
উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক শোনার পর আদালত ৫০০ টাকা মুচলেকায় আগামী ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত জাহিদ অন্তুকে অস্থায়ী জামিন দেন এবং পরবর্তী শুনানির জন্য ওই দিন ধার্য করেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর ইডেন কলেজের এক ছাত্রী গত ৩১ মার্চ রাতে জাহিদ অন্তুর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। এর পরদিন, অর্থাৎ ১ এপ্রিল সকালে গুলশান অ্যাভিনিউ এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকায় গিটার শেখানোর মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। সেই পরিচয় থেকে একসময় প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে পরবর্তীতে সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় একটি পণ্যের ফটোশুটের কথা বলে জাহিদ অন্তু হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ওই ছাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাকে তার বাসায় যাওয়ার প্রস্তাব দেন। অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রীটি সন্ধ্যায় গুলশানে তার বাসায় গেলে জাহিদ অন্তু তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিকভাবে নিপীড়ন করেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, তিনি বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয়, যার ফলে তার মুখ, গলা ও মাথায় আঘাত লাগে। পরে তিনি কৌশলে সেখান থেকে বের হয়ে স্বজনদের সহায়তায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্র: সময় টিভি.
Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ
আপনার মতামত লিখুন: