• ঢাকা
  • সোমবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৮ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

টিকটক করায় নারীর মরদেহ দাফনে বাধা


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২:২২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

টিকটকার সুবর্ণার দাফন নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় তোলপাড়, মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দৌলতদিয়াড় এলাকায় টিকটক ও নাচ-গানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে সুবর্ণা আক্তার (৩৫) নামে এক নারীর মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে তার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্থানীয়দের একাংশ আপত্তি জানালে দাফন কার্যক্রম থমকে যায়।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে ঝিনাইদহ শহরের একটি ভাড়া বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন সুবর্ণা আক্তার। ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে তার মরদেহ চুয়াডাঙ্গার নিজ বাড়িতে আনা হলে শুরু হয় বিতর্ক। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, সুবর্ণা দীর্ঘদিন ধরে নাচ-গান ও টিকটক ভিডিও তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তার চলাফেরা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় নানা আপত্তি ছিল। এলাকাবাসীর একটি অংশ দাবি করে, স্থানীয় কবরস্থানটি তাদের নিজস্ব এবং সেখানে পরিবারের সদস্য ছাড়া অন্য কাউকে দাফনের অনুমতি নেই। তারা আরও অভিযোগ তোলেন, সুবর্ণার পরিবার কখনো কবরস্থানের সদস্যপদ গ্রহণ করেনি। যদিও পরিবারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। সুবর্ণার সৎ বাবা ইসরাইল হোসেন বলেন, এর আগেও তাদের পরিবারের সদস্যদের একই কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। কিন্তু এবার হঠাৎ করেই বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি কবর খোঁড়ার কাজও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দা আসাদুজ্জামান বলেন, “তার কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকাবাসীর আপত্তি ছিল। তাই এখানে দাফন করতে রাজি হয়নি অনেকে।” অন্যদিকে মিনারুল ইসলাম দাবি করেন, “এটি ব্যক্তিমালিকানাধীন কবরস্থান। নিয়ম না মানায় আপত্তি তোলা হয়েছে।” ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। কেউ বলছেন, সমাজে অশালীনতা ও অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে এটি স্থানীয়দের প্রতিবাদ। আবার অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—একজন মানুষ মৃত্যুর পরও কি সামাজিক বিচারের মুখোমুখি হবেন? মরদেহ নিয়ে এমন আচরণ কতটা মানবিক? বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে টিকটকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কনটেন্ট নিয়ে সমাজে এক ধরনের সাংস্কৃতিক বিভাজন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মফস্বল অঞ্চলে টিকটকার পরিচয়কে নেতিবাচকভাবে দেখার প্রবণতা বাড়ছে। সেই সামাজিক মনোভাবেরই প্রতিফলন দেখা গেছে এই ঘটনায়।চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। পুরো ঘটনাটি এখন স্থানীয়ভাবে তীব্র আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।.

.

Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ

সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ