বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় হিমশিম বগুড়া সিটি করপোরেশন, বাড়ছে জনদুর্ভোগ ও পরিবেশঝুঁকি.
.
স্টাফ রিপোর্টার | দ্য ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশ.
বগুড়া | মে ২০২৬.
.
দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে বগুড়া শহরে দিন দিন বাড়ছে জনদুর্ভোগ। সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও আধুনিক বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থার অভাবে নগরবাসীকে এখনো নাকাল হতে হচ্ছে দুর্গন্ধ, ময়লার স্তূপ ও পরিবেশ দূষণে।.
.
নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার, আবাসিক এলাকা ও সরকারি স্থাপনার সামনে প্রতিদিন জমছে আবর্জনার পাহাড়। সময়মতো বর্জ্য অপসারণ না হওয়ায় কোথাও কোথাও দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত পড়ে থাকছে ময়লা। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে রোগবালাই ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি।.
.
বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ মানুষের বসবাস বগুড়া শহর ও আশপাশের বিস্তৃত এলাকায়। প্রতিদিন গড়ে ৩০০ টনের বেশি বর্জ্য উৎপন্ন হলেও সেই তুলনায় সিটি করপোরেশনের যন্ত্রপাতি ও জনবল অপ্রতুল। নগরজুড়ে সীমিতসংখ্যক ডাম্পিং স্টেশন, কমসংখ্যক গার্বেজ ট্রাক এবং আধুনিক সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যত ভেঙে পড়েছে।.
.
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কমিউনিটি বেইজড অর্গানাইজেশন (সিবিও) মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা নির্ধারিত সময়ে অপসারণ সম্ভব হয় না। ফলে সড়কের পাশে, ড্রেনের মুখে এবং খোলা স্থানে জমে থাকে আবর্জনা।.
.
সরেজমিনে দেখা যায়, সাতমাথা, ফতেহ আলী বাজার, বনানী, ঠনঠনিয়া, রেলস্টেশন এলাকা, শিববাটি, নিউমার্কেট, রাজাবাজার, বিসিক শিল্পনগরী, গোহাইল রোড, চেলোপাড়া ও কাঁঠালতলাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছড়িয়ে রয়েছে ময়লার স্তূপ। বৃষ্টির সময় এসব বর্জ্য ড্রেনে পড়ে জলাবদ্ধতারও সৃষ্টি করছে।.
.
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাসিক ফি নেওয়া হলেও অনেক এলাকায় নিয়মিত ময়লা সংগ্রহ করা হয় না। কোথাও ভ্যান নষ্ট, কোথাও শ্রমিক সংকট, আবার কোথাও তদারকির অভাবে দিনের পর দিন পড়ে থাকে বর্জ্য। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।.
.
পরিবেশবাদীরা বলছেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার না করায় পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হচ্ছে। শহরের বর্জ্য বিভিন্ন শহরতলীতে খোলা স্থানে ফেলা হচ্ছে, যা আশপাশের পরিবেশ ও কৃষিজমির জন্যও হুমকি হয়ে উঠছে।.
.
বাপা বগুড়া শাখার নেতারা জানান, বর্জ্য পরিবহনে আধুনিক কম্প্যাক্টর ট্রাক, পর্যাপ্ত স্কিড লোডার ও স্যানিটারি ল্যান্ডফিল না থাকায় নগরীর পরিবেশ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।.
.
সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান অবকাঠামো দিয়ে প্রতিদিনের বিপুল পরিমাণ বর্জ্য অপসারণ সম্ভব হচ্ছে না। আধুনিক যন্ত্রপাতি, নতুন ডাম্পিং স্টেশন, দক্ষ জনবল এবং পর্যাপ্ত অর্থায়ন ছাড়া এই সংকট নিরসন কঠিন।.
.
এদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বগুড়াকে পূর্ণাঙ্গ সিটি করপোরেশন হিসেবে কার্যকর করতে নতুন নগর পরিকল্পনা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নিয়ে কাজ চলছে। তবে বাস্তবায়ন ধীরগতির হওয়ায় নগরবাসী এখনই সুফল পাচ্ছেন না।.
.
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, দ্রুত আধুনিক বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, স্যানিটারি ল্যান্ডফিল, রিসাইক্লিং ব্যবস্থা ও ডিজিটাল মনিটরিং চালু করা না গেলে ভবিষ্যতে বগুড়া শহর বড় ধরনের পরিবেশগত সংকটে পড়তে পারে।. .
Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ
আপনার মতামত লিখুন: