• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ৩০ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

বগুড়ায় পৃথক শিক্ষা বোর্ডের দাবি


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:৩৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত (এডিটেড)

বগুড়ায় পৃথক শিক্ষা বোর্ডের দাবি: ২ হাজারের বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য আঞ্চলিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনার নতুন সম্ভাবনা.

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া:.

উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, বাণিজ্য ও যোগাযোগের কেন্দ্র বগুড়ায় পৃথক শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠার দাবি দীর্ঘদিনের। বিপুল সংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, লাখো শিক্ষার্থী, ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা পরিবেশ এবং প্রশাসনিক সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বগুড়ায় একটি স্বতন্ত্র শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠার দাবি এখন আরও জোরালো হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি শুধু একটি জেলার দাবি নয়; বরং উত্তরাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও বিকেন্দ্রীকরণের একটি যৌক্তিক উদ্যোগ।.

বগুড়া বর্তমানে উত্তরবঙ্গের অন্যতম বড় শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ও বিস্তৃতি একটি পৃথক শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠার সক্ষমতার প্রমাণ বহন করে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বগুড়ায় রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬০০-এর বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩ শতাধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শতাধিক কলেজ, ৩ শতাধিক মাদ্রাসা এবং বিপুল সংখ্যক কারিগরি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।.

বগুড়ার শিক্ষা অঙ্গনের ঐতিহ্যও দীর্ঘদিনের। সরকারি আজিজুল হক কলেজ, সরকারি শাহ সুলতান কলেজসহ জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। প্রতিবছর এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করে জেলার শিক্ষা খাতের সুনাম ধরে রাখছে। ফলে একটি শিক্ষা বোর্ড পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা পরিবেশ ও অবকাঠামো বগুড়ায় রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।.

বর্তমানে বগুড়ার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন বিশাল এলাকার বিপুল সংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে প্রশাসনিক চাপ তৈরি হয় বলে দাবি করা হচ্ছে। একটি পৃথক শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, অনুমোদন, পরীক্ষার ব্যবস্থাপনা, ফলাফল সংক্রান্ত কার্যক্রম, সনদ সংশোধনসহ বিভিন্ন সেবা আরও দ্রুত ও সহজে পাওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।.

বগুড়ায় শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠার অন্যতম বড় যুক্তি হলো ভৌগোলিক অবস্থান। উত্তরাঞ্চলের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বগুড়া দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বগুড়ার সঙ্গে জয়পুরহাট, নওগাঁ, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, নাটোরসহ আশপাশের জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ। ফলে একটি আঞ্চলিক শিক্ষা বোর্ড গঠিত হলে শুধু বগুড়া নয়, আশপাশের জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও উপকৃত হতে পারে।.

শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষা বোর্ড শুধু পরীক্ষা পরিচালনার একটি প্রতিষ্ঠান নয়; এটি শিক্ষা ব্যবস্থাপনা, প্রতিষ্ঠান তদারকি, শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষা বোর্ড থাকলে এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করা এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হয়।.

দাবিদারদের মতে, বর্তমানে শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে বগুড়ার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের ওপর নির্ভর করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে দূরত্ব, সময় ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। বগুড়ায় শিক্ষা বোর্ড হলে এসব সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে।.

এছাড়া শিক্ষা প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ বর্তমান সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষা বোর্ড থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত পরিচালিত হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় বগুড়ার মতো বড় শিক্ষা অঞ্চলে নতুন শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠা হলে উত্তরাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন গতি আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।.

বগুড়ায় পৃথক শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠার দাবি মূলত দাঁড়িয়ে আছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তির ওপর—বিপুল সংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থীর সংখ্যা, ঐতিহাসিক শিক্ষা পরিবেশ, ভৌগোলিক সুবিধা এবং প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের প্রয়োজনীয়তা। তবে নতুন শিক্ষা বোর্ড গঠনের ক্ষেত্রে সরকারকে শিক্ষার্থী সংখ্যা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, জনবল ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে।.

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, বাস্তবতা ও যুক্তিগুলো বিবেচনা করে বগুড়ায় শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হলে এটি উত্তরাঞ্চলের শিক্ষা উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।. .

Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ

শিক্ষা বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ