দেশে গাঁজাসেবীর সংখ্যা প্রায় ৬১ লাখে পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন জরিপ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য উঠে এসেছে। মাদকদ্রব্যের মধ্যে গাঁজার সহজলভ্যতা, তুলনামূলক কম দাম এবং তরুণদের মধ্যে এর ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য ও সমাজবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞরা।.
বিশেষজ্ঞদের মতে, গাঁজাকে অনেকেই ‘কম ক্ষতিকর’ মাদক হিসেবে মনে করলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়মিত সেবনের ফলে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া, মনোযোগে ঘাটতি, উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং কর্মক্ষমতা হ্রাসের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।.
মাদক নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গাঁজার চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অবৈধ সরবরাহ চক্রও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলেও সীমান্তপথে এবং অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুটে গাঁজার প্রবাহ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।.
সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবারভিত্তিক নজরদারি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করাও জরুরি। তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং সৃজনশীল কাজে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে মাদকাসক্তির ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে তারা মত দিয়েছেন।.
এদিকে মাদকবিরোধী সংগঠনগুলো বলছে, গাঁজাসহ সব ধরনের মাদক নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবার পরিধি বাড়ানো প্রয়োজন। অন্যথায় ভবিষ্যতে মাদকাসক্তি আরও বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিতে পারে।.
বিশেষজ্ঞদের মতে, গাঁজাসেবীর সংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা রোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে দেশের যুবসমাজ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।. .
Ajker Bogura / টি এম
আপনার মতামত লিখুন: