বাংলাদেশের জনপ্রিয় টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অভিনেতা চ্যালেঞ্জার—প্রকৃত নাম এ এস এম তোফাজ্জল হোসেন—স্বল্প সময়ের অভিনয়জীবনেই দর্শকদের কাছে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিলেন। তাঁর স্বাভাবিক অভিনয়, সাবলীল সংলাপ বলার ধরন এবং চরিত্রকে প্রাণবন্ত করে তোলার দক্ষতা তাঁকে নব্বই ও দুই হাজার দশকের পরবর্তী সময়ের অন্যতম পরিচিত মুখে পরিণত করে।.
চ্যালেঞ্জার ১৯৫৯ সালের ১০ আগস্ট ঢাকার খিলগাঁওয়ের হাজীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন বলে একাধিক বাংলাদেশি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর জন্মনাম এ এস এম তোফাজ্জল হোসেন। তিনি তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন। তাঁর বোন অভিনেত্রী মনিরা মিঠু।.
অভিনয়ে তাঁর নাম ‘চ্যালেঞ্জার’ রাখেন কথাসাহিত্যিক ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের নাটক হাবলঙ্গের বাজার-এর মাধ্যমে তাঁর টেলিভিশন নাটকে যাত্রা শুরু হয়।.
চ্যালেঞ্জার প্রধান চরিত্রে অভিনয় না করেও নিজের অভিনয় দিয়ে দর্শকের মনোযোগ কেড়ে নিতে পারতেন। তাঁর অভিনয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল স্বতঃস্ফূর্ততা ও নিজস্ব সংলাপ উপস্থাপন। বিভিন্ন নাটকে তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলো দর্শকের কাছে আলাদা জনপ্রিয়তা পায়।.
টেলিভিশনের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও তিনি অভিনয় করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘শ্যামল ছায়া’ (২০০৪), ‘লাল সবুজ’ (২০০৫), ‘দারুচিনি দ্বীপ’ (২০০৭) এবং ‘নয় নম্বর বিপদ সংকেত’।.
২০০৯ সালে অনাথ বাবুর ভয় নাটকের শুটিংয়ের সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁর মস্তিষ্কে ক্যানসার ধরা পড়ে। চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। তবে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ফিরতে পারেননি তিনি।.
২০১০ সালের ১২ অক্টোবর রাত ৯টা ২০ মিনিটে ঢাকার শেখেরটেকের নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন চ্যালেঞ্জার। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫১ বছর।.
চ্যালেঞ্জারের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য সূত্রে বড় কোনো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বা উল্লেখযোগ্য প্রতিযোগিতামূলক পুরস্কার অর্জনের তথ্য পাওয়া যায় না। তবে পুরস্কারের চেয়েও দর্শকের ভালোবাসা ও তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলোর দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তাই তাঁর সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি হয়ে আছে।.
মৃত্যুর ১৬ বছর পরও তাঁর নাটক ও চলচ্চিত্রের অভিনয় দর্শকদের কাছে স্মরণীয়। পুরোনো দর্শকদের নস্টালজিয়ার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মও তাঁর অভিনয় দেখছে। ফলে অল্প সময়ের ক্যারিয়ার হলেও বাংলা নাটক ও চলচ্চিত্রে চ্যালেঞ্জারের রেখে যাওয়া স্বতন্ত্র অভিনয়ধারা এখনো তাঁকে দর্শকের স্মৃতিতে জীবন্ত করে রেখেছে।.
Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ
আপনার মতামত লিখুন: