বগুড়া শহরের স্টেশন রোডে জেলা প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে অবৈধভাবে দেশীয় ফল নামানো ও বিক্রির অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ফল ব্যবসায়ী মহল। এ ঘটনার প্রতিবাদে ফল ব্যবসায়ী সমিতির ৫৪ জন সদস্য একযোগে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
রবিবার (৩ মে) দুপুরে শহরের তিনমাথা রেহেনা ফল মন্ডিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আমদানি-রপ্তানিকারক ও দেশীয় ফল আড়ৎ মালিক সমবায় লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম আরফান।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, জেলা প্রশাসনের একাধিক নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও একটি চক্র স্টেশন রোডে অবৈধভাবে ফল নামানো ও বিক্রয় চালিয়ে যাচ্ছে, যা শহরের যানজট ও পরিবেশ দূষণের কারণ হচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২০২৩ সালে বগুড়া শহরের যানজট নিরসনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা কমিটি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্টেশন রোডের পাইকারি ফলের বাজার তিনমাথা রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে রেহেনা ফলমন্ডিতে স্থানান্তর হয়ে ব্যবসা পরিচালনা শুরু করেন।
তিনি আরও বলেন, “আমরা নিয়ম মেনে নতুন স্থানে ব্যবসা চালালেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে আবারও স্টেশন রোডে অবৈধভাবে ফল বেচাকেনা শুরু করেছে। এতে করে শহরের যানজট পরিস্থিতি আবারও খারাপ হচ্ছে।”
ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজার স্থানান্তরের ফলে শহরের প্রায় ৩০ শতাংশ যানজট কমেছে। কিন্তু নতুন করে অবৈধভাবে ব্যবসা শুরু হওয়ায় সেই সুফল নষ্ট হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে গত শনিবার (২ মে) এক জরুরি সভায় আড়ৎদাররা একত্রিত হয়ে ফল ব্যবসায়ী সমিতি থেকে ৫৪ জন সদস্য একযোগে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম আরফান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক স্বাধীন আহামেদ, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আজমল হোসেন, সাবেক প্রচার সম্পাদক আইনুল ইসলাম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল বারী, সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক লাইজু এবং সাবেক ধর্মীয় সম্পাদক হাফেজ আজমি সহ আরও অনেকে।
সংবাদ সম্মেলনে আড়ৎদার মালিকরা অবৈধভাবে স্টেশন রোডে ফল বেচাকেনা বন্ধে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।.
Ajker Bogura / টি এন
আপনার মতামত লিখুন: