বগুড়া জেলার শাজাহানপুর উপজেলার গোহাইল ইউনিয়নের অদূরে অবস্থিত ‘পিছুলগাড়ি’ নামের একটি গ্রাম, যা গত প্রায় চার দশক ধরে জনশূন্য অবস্থায় পড়ে আছে বলে স্থানীয়দের দাবি। সময়ের সাথে সাথে এই গ্রামটি পরিণত হয়েছে এক রহস্যময় ও ভীতিকর জনপদে, যেখানে দিনের বেলায় সীমিত কিছু মানুষের যাতায়াত থাকলেও সূর্য ডোবার পর পুরো এলাকা যেন নেমে যায় অজানা আতঙ্কে। স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্যমতে, প্রায় ৪০ বছর আগে ডাকাতির ভয়ে গ্রামবাসীরা একে একে এলাকা ছেড়ে চলে যান এবং এরপর আর কেউ স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেননি। তাদের দাবি, এক সময় এই গ্রামে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের উৎপাত এতটাই বেড়ে যায় যে জীবন-জীবিকার নিরাপত্তাহীনতায় মানুষ বাধ্য হয়ে ভিটেমাটি ত্যাগ করে।তবে শুধু ডাকাত আতঙ্কই নয়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গ্রামটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা রহস্যময় ধারণা ও গুজব। স্থানীয়দের অনেকেই বলেন, এই গ্রামের পরিত্যক্ত ঘরবাড়ি কিংবা কোনো জিনিসপত্র কেউ নিতে পারেন না—এমন চেষ্টা করলে নাকি অদ্ভুত সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। যদিও এসব দাবির কোনো প্রমাণিত ভিত্তি পাওয়া যায়নি, তবুও ভীতি এতটাই গভীর যে আজও আশপাশের মানুষ সন্ধ্যার পর পিছুলগাড়ি এলাকায় যেতে সাহস পান না।বর্তমানে গ্রামটির পরিত্যক্ত বাড়িঘর, ঝোপঝাড়ে ঢাকা রাস্তা এবং নীরব পরিবেশ যেন এক ভৌতিক আবহ তৈরি করেছে। দিনের বেলায় কিছু কৃষক বা পথচারী এলাকা অতিক্রম করলেও সূর্যাস্তের পর পুরো অঞ্চল হয়ে পড়ে নিস্তব্ধ ও জনমানবশূন্য। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই গ্রাম নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না থাকলেও স্থানীয়দের মাঝে বিরাজমান ভয় ও কৌতূহল পিছুলগাড়িকে পরিণত করেছে এক অজানা রহস্যের প্রতীকে।বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার কারণে একটি এলাকার সামাজিক ও মানসিক প্রভাব মানুষের মধ্যে ভীতি তৈরি করতে পারে, যা সময়ের সাথে গুজব ও কল্পকাহিনীর জন্ম দেয়। তবে বাস্তবতা যাই হোক না কেন, বগুড়ার পিছুলগাড়ি গ্রাম এখনো স্থানীয়দের কাছে এক অনির্বচনীয় আতঙ্ক ও রহস্যের নাম হয়ে রয়েছে। .
স্টাফ রিপোর্টার : সামসিল আরিফিন . .
Ajker Bogura / ডি আর/ এস এ
আপনার মতামত লিখুন: