কিন্তু দুঃখজনকভাবে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি গোলচত্বরেও এখন পর্যন্ত গড়ে ওঠেনি কোনো আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা। বিশেষ করে পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য নেই কোনো নির্দিষ্ট জেব্রা ক্রসিং কিংবা ফুটওভার ব্রিজ (ওভারব্রিজ)। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন হাজারো মানুষ রাস্তা পারাপার করতে বাধ্য হচ্ছেন।.
সাতমাথা এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, এক মুহূর্তের জন্যও যান চলাচল থামে না। গাড়ি, অটোরিকশা, রিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন অবিরাম চলাচল করছে। এর মধ্যেই পথচারীরা সুযোগ বুঝে দৌড়ে রাস্তা পার হচ্ছেন, যা যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।.
এছাড়া ফুটপাতগুলোও অধিকাংশ জায়গায় দখল করে নিয়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। দোকানপাট ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসার কারণে পথচারীরা ফুটপাত ব্যবহার করতে না পেরে বাধ্য হয়ে সড়কে নেমে চলাচল করছেন। এতে একদিকে যেমন পথচারীদের ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে যানবাহনের চলাচলেও তৈরি হচ্ছে অতিরিক্ত চাপ ও বিশৃঙ্খলা।.
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রেলক্রসিংয়ের দুর্ভোগ। সাতমাথার নিকটবর্তী রেললাইন দিয়ে ট্রেন চলাচলের সময় গেট বন্ধ হয়ে গেলে মুহূর্তেই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। কখনও কখনও এই যানজট কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, যা পুরো শহরের যান চলাচলকে অচল করে দেয়।.
স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের দাবি, সাতমাথায় দ্রুত একটি আধুনিক ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হলে পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হবে এবং সড়কে যানজট অনেকাংশে কমে আসবে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট জেব্রা ক্রসিং, ট্রাফিক সিগন্যাল এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।.
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি ব্যস্ততম নগরীর কেন্দ্রবিন্দুতে এমন অব্যবস্থাপনা দীর্ঘমেয়াদে নগর পরিকল্পনার বড় ধরনের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। তাই দ্রুত পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করে সাতমাথাকে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল ট্রাফিক ব্যবস্থার আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।.
সবমিলিয়ে, বগুড়ার সাতমাথা গোলচত্বর এখন শুধুই একটি সড়কসংযোগ নয়—এটি নগরবাসীর দৈনন্দিন ভোগান্তির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থার পরিবর্তনে প্রয়োজন দ্রুত, কার্যকর এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।. .
Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ
আপনার মতামত লিখুন: