বগুড়ার বুক চিরে চলে যাওয়া এই গাছপালায় ঘেরা সড়ক যেন প্রকৃতির আঁকা এক জীবন্ত ক্যানভাস। মাথার ওপর সবুজের বিশাল ছাউনি, দুই ধারে সোনালী-সবুজ ফসলের মাঠ আর বাতাসে ভেসে আসা পাখিদের কিচিরমিচির—সব মিলিয়ে পথটি যেন এক শান্তির রাজ্য। একসময় আধুনিকতার নামে উন্নয়নের ছোঁয়ায় বগুড়ার অনেক এমন বৃক্ষশোভিত সড়ক হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। কেটে ফেলা হয়েছে শতবর্ষী গাছ, নিভে গেছে প্রকৃতির নির্মল সৌন্দর্য। অথচ এই পথগুলোই ছিল মানুষের ক্লান্ত মনে প্রশান্তির পরশ, ভোরের শিশিরমাখা বাতাসে জীবনের নতুন অনুভব। এই সড়কে চললে মনে হয়, প্রকৃতি যেন আপন মনে গল্প শোনায়—পাতার ফাঁকে রোদের খেলা, দূর থেকে ভেসে আসা পাখির ডাক, আর ধানক্ষেতের ঢেউয়ে হারিয়ে যাওয়া এক অপার্থিব শান্তি। এমন পথ শুধু চলার রাস্তা নয়, এটি বগুড়ার হারিয়ে যেতে বসা সৌন্দর্যের এক নীরব স্মৃতি। শহরের ব্যস্ত কোলাহল আর ধোঁয়াটে জীবনের ক্লান্তি ভুলে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ছুটে আসেন এই সবুজ ছায়াঘেরা পথে। কেউ খুঁজে নেন নির্মল বাতাসের স্পর্শ, কেউবা প্রকৃতির নিঃশব্দ সান্নিধ্যে কিছুটা শান্তি। এই সড়ক ধরে এগিয়ে গেলেই দেখা মেলে গ্রাম বাংলার চিরচেনা ঐতিহ্যের—মাটির গন্ধে ভরা এক প্রাণবন্ত হাট, যেখানে আজও বেঁচে আছে বাংলার শেকড়, সংস্কৃতি আর গ্রামের সরল সৌন্দর্য। সন্ধ্যার নরম আলো যখন গাছের পাতায় পাতায় ছড়িয়ে পড়ে, তখন পুরো পথটি যেন রূপ নেয় এক স্বপ্নময় দৃশ্যে। মনে হয়, প্রকৃতি এখানে এখনো তার পুরোনো রূপ আঁকড়ে ধরে আছে—নীরবে, আপন মহিমায়।.
.
লেখা: সামসিল আরিফিন.
. .
Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ
আপনার মতামত লিখুন: