দীর্ঘ এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা তীব্র তাপপ্রবাহের পর রবিবার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বস্তির বৃষ্টি নামলেও সেই বৃষ্টির সঙ্গে আসা বজ্রপাত মুহূর্তেই রূপ নেয় ভয়াবহ মৃত্যুফাঁদে, আর এতে দেশের অন্তত সাত জেলায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৪ জন। নিহতদের মধ্যে গাইবান্ধায় সবচেয়ে বেশি পাঁচজন, ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ ও জামালপুরে দুজন করে এবং পঞ্চগড়, বগুড়া ও নাটোরে একজন করে মারা গেছেন। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলায় বজ্রপাতে প্রাণ হারান ফুয়াদ চৌধুরী (১০), রাফি চৌধুরী (১৫), মিজান মিয়া (২০), মানিক মিয়া (২৫) ও নম্বার আলী (৬৫); একই ঘটনায় আহত হন আরও একজন এবং মারা যায় একটি গরু। ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে মাঠে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে নিহত হন লাবণী আক্তার (৩৫) ও ইলিয়াস আলী (৩৭)। সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ ও তাড়াশ উপজেলায় বৃষ্টির মধ্যে কৃষিকাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারান হোসেন আলী সেখ (২৫) ও আবদুল হামিদ (৫০)। জামালপুরে পৃথক বজ্রপাতে মারা যান মর্জিনা বেগম (২২) ও হাসমত আলী (৪৫), আহত হন আরও চারজন, পাশাপাশি মারা যায় পাঁচটি গবাদিপশু। পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে চা বাগানে কাজ করার সময় বজ্রপাতে নিহত হন সোহরাওয়ার্দী (২২), আহত হন আরও দুই শ্রমিক। নাটোরের সিংড়ায় ধান কাটার কাজ শেষে আশ্রয় নিয়েও রক্ষা পাননি সম্রাট হোসেন (২৬), হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। আর বগুড়ার গাবতলীতে মাঠ থেকে ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারান কৃষক সুমন (৩৫)। আকস্মিক এই প্রাণহানিতে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে প্রতিটি এলাকা, আর আবারও স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদে বজ্রপাত এখন নীরব ঘাতকে পরিণত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মাসের বাকি দিনগুলোতেও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি ও বজ্রসহ ঝড় হতে পারে, ফলে তাপপ্রবাহ কিছুটা কমলেও বজ্রপাতের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। এ অবস্থায় মাঠে কাজ করা কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া খোলা স্থানে না থাকার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন, কারণ সামান্য অসতর্কতাই মুহূর্তের মধ্যে কেড়ে নিতে পারে আরেকটি মূল্যবান প্রাণ।.
.
সূত্র: বাংলা ভিশন . .
Ajker Bogura / ডি আর/ এস এ
আপনার মতামত লিখুন: