২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং নারী শিক্ষার প্রসারে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।.
বাজেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব হলো মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ। পাশাপাশি আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও রয়েছে।.
শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে দেশব্যাপী মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের জন্য উন্নত স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।.
ডিজিটাল শিক্ষার প্রসারে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা এবং ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।.
এছাড়া বিতর্ক, বিজ্ঞান মেলা, সাহিত্যচর্চা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ক্রীড়া কার্যক্রমকে আরও উৎসাহিত করে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল বিকাশে সহায়তা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা খাতে ব্যয় ধাপে ধাপে বাড়িয়ে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।.
নতুন পরিকল্পনায় নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, নেতৃত্বগুণ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ধাপে ধাপে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।.
ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফরাসি ও জার্মান ভাষা শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত শিক্ষা ঋণ দেওয়ার প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে।.
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা আরও আধুনিক, দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী হয়ে উঠবে। তবে পরিকল্পনাগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত অর্থায়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা জরুরি।. .
Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ
আপনার মতামত লিখুন: