• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১২ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

বগুড়ায় মোটরসাইকেলে লিফট দেওয়ার নামে যুবককে অজ্ঞান করে সর্বস্ব লুট ​


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৫:৫৪ পিএম
ছবি : প্রতীকী
ছবি : প্রতীকী

মনিরুজ্জামান জাহিদ সারিয়াকান্দি  (বগুড়া) প্রতিনিধি:.

বগুড়ায় চলন্ত মোটরসাইকেলে লিফট দেওয়ার কথা বলে এক যুবককে চেতনানাশক খাইয়ে সর্বস্ব লুটে নিয়েছে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা। গত ৩ জুন দুপুরে বগুড়ার শাজাহানপুর ও শেরপুর থানা এলাকায় এই অভিনব চুরির ঘটনা ঘটে।
​এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আফ্রিদি হোসেন (২৫) বাদী হয়ে শেরপুর থানায় অজ্ঞাতনামা দুইজনকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আফ্রিদি বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের দহপাড়া গ্রামের আকরাম হোসেনের ছেলে।
​লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুন দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে আফ্রিদি হোসেন বগুড়ার শাজাহানপুর থানাধীন বনানী বাসস্ট্যান্ড থেকে সিরাজগঞ্জে তাঁর শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। এ সময় এক অজ্ঞাতনামা মোটরসাইকেল আরোহী গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাঁকে মোটরসাইকেলে তুলে নেয়। ১০ মিনিট পর শেরপুর থানার 'নরিমিক্স ফিলিং স্টেশন' থেকে তেল নেওয়ার কথা বলে গাড়িটি থামানো হয়।
​পরবর্তীতে পেট্রোল পাম্পের অদূরে শাজাহানপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সামনে ‘আনাস ভ্যারাইটি স্টোর’ নামের একটি মুদি দোকানের সামনে আফ্রিদিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অপর এক সহযোগীসহ মোটরসাইকেল চালক আফ্রিদিকে জোরপূর্বক লিচু, খেজুর ও পানি খাওয়ায়। এর কিছুক্ষণ পরই তিনি সম্পূর্ণ অচেতন হয়ে পড়েন।
​আফ্রিদি অচেতন হয়ে যাওয়ার পর অপরাধী চক্রটি তাঁর পরিবারের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করে বিভ্রান্ত ছড়াতে শুরু করে। বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে আফ্রিদির বাবার ফোনে কল করে জানানো হয়, তাঁর ছেলে ধুনট মোড়ে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। স্বজনরা তাৎক্ষণিক ধুনট মোড়ে গিয়ে পাল্টা কল করলে চক্রটি অবস্থান পরিবর্তন করে মির্জাপুর বাসস্ট্যান্ডের কথা বলে।
​পরবর্তীতে দীর্ঘ নাটকীয়তা ও খোঁজাখুঁজির পর, রাত ১১টার দিকে মির্জাপুর ইউনিয়নের 'মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ'-এর একটি কক্ষ থেকে আফ্রিদিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন তাঁর বন্ধু মেহেদী মারুফ।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ওই রাতেই তাঁকে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘ চিকিৎসার পর জ্ঞান ফিরলে চিকিৎসকরা জানান, তাঁকে উচ্চমাত্রার চেতনানাশক খাওয়ানো হয়েছিল।
​ভুক্তভোগী আফ্রিদি হোসেন জানান, জ্ঞান ফেরার পর তিনি দেখেন তাঁর সাথে থাকা একটি লেনোভো ল্যাপটপ, ভিভো এক্স-২০০ মডেলের একটি ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন এবং ব্যাগে থাকা নগদ ৮০ হাজার টাকা লুটে নেওয়া হয়েছে।
শেরপুর থানার উপ-পরিদর্শক মোসলেম উদ্দিন জানান, ভুক্তভোগী যুবকের লিখিত অভিযোগটি আমলে নেওয়া হয়েছে। অপরাধীদের শনাক্তকরণ, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং এই চক্রটিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।. .

Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ

অপরাধ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ