দেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি তেলের অপ্রতুলতার অভিযোগের মধ্যেই ভিন্ন এক চিত্র দেখা যাচ্ছে মাঠপর্যায়ে। অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে অকটেন ও পেট্রোল না থাকার কথা জানানো হলেও, স্থানীয় মোড়ের দোকান বা অনানুষ্ঠানিক বিক্রয়স্থলে অতিরিক্ত দামে সহজেই মিলছে এসব জ্বালানি। ফলে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—পাম্পে সংকট থাকলেও বাইরে সরবরাহ অব্যাহত কীভাবে?
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে অনিয়মের সুযোগ নিয়ে একটি অসাধু চক্র সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু পাম্প থেকে গোপনে ড্রাম বা বোতলের মাধ্যমে জ্বালানি তেল বের করে স্থানীয় খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে পাম্পে কৃত্রিম সংকট তৈরি হলেও বাইরে উচ্চমূল্যে বিক্রির সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ডিপো থেকে পাম্প পর্যন্ত সরবরাহ চেইনের মধ্যেই একটি অংশ বিচ্যুত হয়ে যায়। কাগজে-কলমে সরবরাহ ঠিক থাকলেও বাস্তবে সেই তেলের একটি অংশ নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছায় না। ফলে পাম্পগুলোতে ঘাটতির চিত্র দেখা যায়, অথচ একই এলাকায় অনানুষ্ঠানিক বাজারে সরবরাহ অব্যাহত থাকে।
এছাড়া, বিশেষ করে উৎসব মৌসুম বা ছুটির সময় চাহিদা বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে পাম্পে সরবরাহ সীমিত রাখার অভিযোগও রয়েছে। এতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাইরে অধিক দামে বিক্রির প্রবণতা বাড়ে, যা ভোক্তাদের জন্য অতিরিক্ত ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অন্যদিকে, এই পরিস্থিতির পেছনে তদারকি ও নজরদারির ঘাটতিকেও দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। নিয়মিত মনিটরিং এবং কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না থাকায় অবৈধ সরবরাহ ও মজুতদারির এই চক্র দিন দিন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সাধারণ ভোক্তাদের দাবি, জ্বালানি সরবরাহে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি। অন্যথায়, পাম্পে সংকট আর মোড়ে সহজলভ্যতার এই বৈপরীত্য অব্যাহত থাকবে, যা বাজারে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়াবে।.
Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ
আপনার মতামত লিখুন: