• ঢাকা
  • বুধবার, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ০১ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: বুধবার, ০১ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:০৭ এএম
ছবি : প্রতীকী
ছবি : প্রতীকী

বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (Bogura Science and Technology University) বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের একটি বহুল প্রত্যাশিত সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিনের দাবি ও পরিকল্পনার পর অবশেষে ২০২৩ সালের ২৩ মে আইনি কার্যকারিতার মাধ্যমে এর প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত হয়। যদিও ২০০১ সালেই এ সংক্রান্ত একটি আইন পাস হয়েছিল, নানা কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে নতুন উদ্যোগ ও সরকারের সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টি আলোর মুখ দেখে, যা বগুড়াসহ পুরো উত্তরবঙ্গ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সীমিত পরিসরে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। শুরুতেই প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের অধীনে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (CSE) এবং অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে পাঠদান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ধীরে ধীরে আরও বিভাগ ও অনুষদ চালু করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রশাসনিক কাঠামো গঠন এখনো চলমান রয়েছে। প্রশাসনিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়টির নেতৃত্বে রয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ কুদরাত-ই-জাহান, যিনি ২০২৫ সালে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে একটি আধুনিক, গবেষণাভিত্তিক এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে দেশ ও জাতির উন্নয়নে অবদান রাখাই এই প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য । অবস্থানগত দিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি বগুড়া শহরকেন্দ্রিক এলাকায় গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে সহজ যোগাযোগ, শিক্ষার্থীদের আবাসন এবং শহরের সাথে সমন্বয় বজায় রাখা যায়। তবে এখনো স্থায়ী ক্যাম্পাস পুরোপুরি নির্মাণাধীন, ফলে প্রাথমিক কার্যক্রম অস্থায়ী ক্যাম্পাস থেকে পরিচালিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ভবিষ্যতে একটি পূর্ণাঙ্গ, আধুনিক ও সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে থাকবে একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল, গবেষণাগার এবং অন্যান্য সুবিধা। বগুড়ার স্বার্থের দিক থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়টির গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর ও বহুমাত্রিক। দীর্ঘদিন ধরে উত্তরবঙ্গের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকা বা অন্যান্য বড় শহরে যেতে বাধ্য হয়েছে, যা সময়, খরচ ও সামাজিক নানা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বগুড়ায় একটি সরকারি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ফলে এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকায় থেকেই মানসম্মত উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি এটি স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙা করবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, আবাসন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এক কথায়, বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি পুরো অঞ্চলের উন্নয়নের একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।.

.

Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ

সম্পাদকীয় বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ