৪২ লাখ ৫০ হাজার টাকার পে-অর্ডার অবমুক্তে অনিয়মের অভিযোগ; জমির দলিলে নাম পরিবর্তনের অভিযোগও, তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের দাবি ভুক্তভোগীর।.
বগুড়ার শেরপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নাঈমা সিদ্দিকার বিরুদ্ধে একটি জমির নিবন্ধন সম্পন্ন না হওয়ার সুযোগে ৪২ লাখ ৫০ হাজার টাকার পে-অর্ডার অবমুক্তে অনিয়ম এবং প্রায় ২০ লাখ ১৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়ার কথা বলা হলেও পুলিশ জানিয়েছে, তারা এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পায়নি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর শেরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৩২৮ শতক জমি নিবন্ধনের জন্য ক্রেতা মাহমুদুল হাসান ও বিক্রেতা সামসুজ্জোহা উপস্থিত হন। সোনালী ব্যাংক শেরপুর শাখার মাধ্যমে আটটি পে-অর্ডারে মোট ৪২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দেওয়া হলেও আইনি জটিলতার কারণে সেদিন জমির নিবন্ধন সম্পন্ন হয়নি। ফলে পে-অর্ডারগুলো সাব-রেজিস্ট্রি অফিসেই সংরক্ষিত ছিল।
এরপর ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সাব-রেজিস্ট্রারের অনুমতিক্রমে ৬ লাখ ৭১ হাজার টাকার একটি পে-অর্ডার অবমুক্ত করে টাকা উত্তোলন করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে ক্রেতার আমমোক্তার মো. নূর আলম শাকিল অবশিষ্ট পে-অর্ডারগুলো নগদায়ন বন্ধ রাখতে সাব-রেজিস্ট্রার ও সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অনুরোধ জানান।
তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই আবেদন উপেক্ষা করে গত ৭ মে আরও প্রায় ১৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকার দ্বিতীয় পে-অর্ডারও অবমুক্ত করা হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, সাব-রেজিস্ট্রার, দলিল লেখক ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে মোট ২০ লাখ ১৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এছাড়া ক্রেতা মাহমুদুল হাসান অভিযোগ করেন, দলিলে তাঁর স্ত্রী সাদেকা খানমের নাম পরিবর্তন করে জালিয়াতির মাধ্যমে তানিয়া আক্তার নামে এক নারীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
সোনালী ব্যাংক শেরপুর শাখার ব্যবস্থাপক মাহবুবুল আলম বলেন, সাব-রেজিস্ট্রারের অবমুক্তির নির্দেশনা অনুযায়ী দুটি পে-অর্ডারের টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। পরবর্তী দুটি পে-অর্ডার ভাঙানোর চেষ্টা হলেও তা স্থগিত রাখা হয়েছে।
অভিযুক্ত দলিল লেখকের সহকারী সামছু হোসেন আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, উত্তোলিত অর্থ তানিয়া আক্তার ও আমমোক্তার নূর আলম শাকিলের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে শেরপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নাঈমা সিদ্দিকা বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত নন। সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তিনি এ বিষয়ে গণমাধ্যমে মন্তব্য করতে পারবেন না।
ভুক্তভোগী সাদেকা খানম দাবি করেন, গত ২২ জুলাই তদন্তের নামে তাঁদের দপ্তরে ডেকে হেনস্তা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি সাব-রেজিস্ট্রার, দলিল লেখকের সহকারী সামছু হোসেনসহ অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
তবে শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, উভয় পক্ষই থানায় মৌখিক অভিযোগ করেছেন। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।.
.
Ajker Bogura / সামসিল আরিফিন
আপনার মতামত লিখুন: