নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া:.
বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা চত্বর দীর্ঘদিন ধরে তীব্র যানজটের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। শহরের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক সড়ক এই মোড়কে ঘিরে সংযুক্ত হওয়ায় প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এখানে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। এতে শুধু সাতমাথা নয়, আশপাশের সড়কগুলোতেও যানজট ছড়িয়ে পড়ে, ফলে পুরো শহরের যান চলাচল ব্যাহত হয়।.
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বগুড়া শহরের সড়কগুলো যে পরিমাণ যানবাহন চলাচলের জন্য পরিকল্পিত ছিল, বর্তমানে তার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি যানবাহন প্রতিদিন চলাচল করছে। বিশেষ করে অফিস সময় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটির সময় সাতমাথা এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। অনেক ক্ষেত্রে মাত্র কয়েকশ মিটার পথ অতিক্রম করতে ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে, যা নগরবাসীর নিত্যদিনের ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে।.
সাতমাথা মোড়টি শহরের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় এখানে সামান্য যানজট তৈরি হলেও তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে। কাঁচাবাজার, অস্থায়ী দোকান, অবৈধ পার্কিং এবং ধীরগতির যানবাহনের আধিক্যের কারণে মোড়ের কার্যক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এতে অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।.
নগর পরিকল্পনা সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান যানচাপ বিবেচনায় সাতমাথার ওপর নতুন একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করলে যান চলাচলকে একাধিক স্তরে ভাগ করা সম্ভব হবে। এতে দ্রুতগতির যানবাহন উপরের স্তর দিয়ে চলাচল করতে পারবে এবং নিচের সড়কে স্থানীয় যান চলাচল সহজ হবে। ফলে মোড়ের ওপর চাপ কমে যানজট অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।.
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন চালকদের মতে, বগুড়া শহরে প্রতিনিয়ত নতুন যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু সে অনুযায়ী সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন হয়নি। এ অবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সাতমাথায় আরেকটি ফ্লাইওভার নির্মাণ এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। তাদের মতে, পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন ছাড়া ভবিষ্যতে যানজট পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।. .
Ajker Bogura / তাহমিদ জাওয়াদ
আপনার মতামত লিখুন: