• ঢাকা
  • বুধবার, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ০১ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

পরীক্ষায় ফেল করেন পলাশ, খবর শুনে ব্রেইন স্ট্রোক করেন মা


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: বুধবার, ০১ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০২:৪৪ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল হক পলাশ, যিনি ব্যাচেলর পয়েন্ট নাটকের ‘কাবিলা’ চরিত্রের মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন, সম্প্রতি এক রিয়্যালিটি শোতে নিজের জীবনের কঠিন ও অজানা গল্প তুলে ধরেছেন। পর্দার সফল এই অভিনেতার শুরুর জীবনটা ছিল চরম সংগ্রাম আর ব্যর্থতায় ভরা—এমনটাই জানান তিনি। পলাশ বলেন, তার জীবনের গল্পটা আসলে “বাদ পড়ার গল্প”। ২০০৯ সালে তিনি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। স্কুলজীবনে মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিত থাকলেও ওই পরীক্ষায় তিনি অকৃতকার্য হন। শুধু তাই নয়, প্রায় তিন হাজার পরীক্ষার্থীর মধ্যে তিনিই একমাত্র ফেল করেছিলেন। এই ঘটনাই তার জীবনে বড় ধাক্কা হয়ে আসে। এই ফলাফল তার পরিবারের জন্যও ছিল অত্যন্ত কষ্টদায়ক। বিশেষ করে তার মা ছেলের এই ব্যর্থতার খবর সহ্য করতে পারেননি। ফলাফল শোনার পরপরই তিনি ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এরপর দীর্ঘ চার বছর কোমায় ছিলেন তিনি। জীবনের এই ভয়াবহ সময় পলাশকে ভেঙে দেয় এবং মানসিকভাবে গভীর প্রভাব ফেলে। এই ঘটনার পর পলাশ নিজেকে গুটিয়ে নেন। বন্ধুদের থেকে দূরে সরে যান এবং পড়াশোনায় অনিয়মিত হয়ে পড়েন। পরের বছর কলেজে ভর্তি হলেও নিয়মিত ক্লাস করতেন না, কারণ নতুন পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছিলেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময়ও ভালো ফলাফল করতে পারেননি তবে এত প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি হাল ছাড়েননি। ধীরে ধীরে নিজের পথ খুঁজে নেন এবং শেষ পর্যন্ত তিতুমীর কলেজ থেকে শিক্ষা জীবন সম্পন্ন করেন। এরপর অভিনয় ও নির্মাণ জগতে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি প্রখ্যাত নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী-এর সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। এই সময়েও তাকে বহুবার বিভিন্ন জায়গা থেকে বাদ পড়তে হয়েছে। তবুও তিনি দমে যাননি, বরং প্রতিটি ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে গেছেন। অবশেষে তার পরিশ্রম ও ধৈর্যের ফল মেলে। ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ নাটকে কাবিলা চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন এবং ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তার এই জীবনগল্প প্রমাণ করে—ব্যর্থতা যত বড়ই হোক, চেষ্টা আর দৃঢ় মনোবল থাকলে সাফল্য একদিন আসবেই।.

.

Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ

সম্পাদকীয় বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ