.
উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ জেলা বগুড়া ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদে সমৃদ্ধ একটি প্রাচীন জনপদ। ইতিহাস থেকে জানা যায়, বাংলার অন্যতম প্রাচীন নগরী হিসেবে বগুড়ার পরিচিতি রয়েছে।.
মৌর্য যুগে এ অঞ্চল পুণ্ড্রবর্ধন নামে পরিচিত ছিল। বগুড়ার প্রাচীন নাম ছিল পৌণ্ড্রবর্ধন এবং এটি বরেন্দ্রভূমি নামে খ্যাত ঐতিহাসিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার অংশ ছিল বর্তমান রাজশাহী অঞ্চলও। ৯ম থেকে ১২শ শতাব্দী পর্যন্ত এই অঞ্চল সেন রাজবংশ দ্বারা শাসিত হয়। পরবর্তীতে ১৩শ শতকের শুরুতে মুসলিম শাসকদের অধীনে আসে। এরপরও সেন বংশের শাসকরা প্রায় এক শতাব্দী সামন্তপ্রধান হিসেবে শাসনকার্য পরিচালনা করেন। পরে গৌড়ের শাসক বাহাদুর শাহ সেনদের ক্ষমতাচ্যুত করেন।.
১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বগুড়া ৭ নম্বর সেক্টরের অধীনে ছিল।.
জেলা হিসেবে বগুড়ায় রয়েছে বহু ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মহাস্থানগড়, গোকুল মেধ, ভাসু বিহার, শীলাদেবীর ঘাট, গোবিন্দভিটা এবং সারিয়াকান্দির প্রেম যমুনার ঘাট।.
এছাড়াও রয়েছে শাহ সুলতান বলখি (রহ.) এর মাজার, মহাস্থানগড় জাদুঘর, খেরুয়া মসজিদ, শহীদ চান্দু ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং পল্লী উন্নয়ন একাডেমী।.
আধুনিক বিনোদন ও পর্যটনের ক্ষেত্রেও বগুড়া সমৃদ্ধ। শহরের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে নাজ গার্ডেন, ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক, মম-ইন ইকো পার্ক এবং বনানী এলাকার পর্যটন মোটেল।.
এছাড়া গাবতলীর বাগবাড়িতে অবস্থিত জিয়া বাড়ি—যা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর জন্মস্থান—জেলার অন্যতম ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে পরিচিত।.
ইতিহাস, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমন্বয়ে বগুড়া আজও উত্তরবঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী জেলা হিসেবে পরিচিত।.
Ajker Bogura / সামসিল আরিফিন
আপনার মতামত লিখুন: