• ঢাকা
  • রবিবার, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ০৫ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

পরিবর্তনের প্রত্যাশায় নন্দীগ্রাম, আলোচনায় আহসান হাবীব


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: রবিবার, ০৫ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:৫৪ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকার রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে পরিচিত মুখ আহসান হাবীব এবার নিজ জন্মভূমির মানুষের সেবায় সরাসরি অংশ নিতে যাচ্ছেন নির্বাচনের মাধ্যমে। বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ২ নম্বর নন্দীগ্রাম সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন তিনি। ছাত্র অধিকার পরিষদের এই তুখোড় নেতা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, মোদি বিরোধী আন্দোলন এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান—সবকিছুতেই ঢাকার রাজপথে সম্মুখ সারিতে ছিলেন আহসান হাবীব। আন্দোলনের সময় তার সাহসী ভূমিকা কেন্দ্রীয় নেতাদের নজর কাড়ে এবং তাকে একজন পরীক্ষিত সংগঠক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। নন্দীগ্রাম উপজেলার সদর ইউনিয়নের রনবাঘা গ্রামের জইমুদ্দিন ড্রাইভারের ছেলে আহসান হাবীব তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হন। তিনি রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের দায়িত্ব একাধিকবার পালন করেছেন, যা তার সাংগঠনিক দক্ষতার প্রমাণ বহন করে তার প্রার্থিতাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতারাও। ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক নাজমুল হাসান নেহাল বলেন, আহসান হাবীব কেবল একজন ছাত্রনেতা নন, তিনি রাজপথের পরীক্ষিত যোদ্ধা। ২০১৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল প্রশংসনীয়। তিনি নির্বাচিত হলে নন্দীগ্রাম সদর ইউনিয়ন একটি দুর্নীতিমুক্ত ও আদর্শ ইউনিয়নে পরিণত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। বর্তমান সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিত আহসান হাবীব দীর্ঘদিন কেন্দ্রীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিজ এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চান তিনি। এ বিষয়ে আহসান হাবীব বলেন, “আমি ছাত্রজীবন থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াই করেছি। এখন সময় এসেছে নিজের এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। আমি তরুণদের সঙ্গে নিয়ে নন্দীগ্রাম ২ নম্বর সদর ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, স্বনির্ভর ও দুর্নীতিমুক্ত ইউনিয়নে রূপান্তর করতে চাই।” এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যেও তার প্রার্থিতা নিয়ে ইতিবাচক সাড়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, প্রচলিত ধারার বাইরে একজন শিক্ষিত, সচেতন ও সংস্কারমুখী তরুণ নেতৃত্ব ইউনিয়ন পরিষদে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে তরুণ নেতৃত্বকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত সাধারণ ভোটাররা। ইতোমধ্যে নির্বাচনকে সামনে রেখে আহসান হাবীব ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে গণসংযোগ শুরু করেছেন। তিনি সরাসরি মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তাদের সমস্যা, প্রত্যাশা ও চাহিদার কথা শুনছেন এবং সবার সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। তার এই প্রচারণা কার্যক্রমে স্থানীয়দের অংশগ্রহণ ও আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। সব মিলিয়ে, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে নন্দীগ্রাম সদর ইউনিয়নে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন তরুণ এই প্রার্থী। এখন দেখার বিষয়, ভোটের মাঠে তার এই জনপ্রিয়তা কতটা প্রভাব ফেলতে.

.

Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ

রাজনীতি বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ