সারাজীবন মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে কোরআন শিক্ষা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেছেন আশি বছরের বৃদ্ধা সালেহা বেওয়া। কিন্তু জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি আজ চরম অসহায়তায় দিন কাটাচ্ছেন। নেই নিজের কোনো ঘর, নেই পাশে দাঁড়ানোর মতো আপনজন—এমন বাস্তবতায় বগুড়া শহরের কর্ণপুর এলাকায় একটি পরিত্যক্ত নির্মাণাধীন ভবনে প্যারালাইজড ছেলেকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।
পাকিস্তান আমলে স্বামী কাজেম শেখকে হারানোর পর থেকেই সংগ্রামের শুরু। মানুষের বাড়িতে কোরআন পড়ানো ও গৃহস্থালির কাজ করে দুই ছেলেকে বড় করেন তিনি। দীর্ঘদিন ভাড়া বাসায় থাকলেও বড় ছেলে হানিফ শেখের মৃত্যুর পর সংসারে নেমে আসে দুর্দশা। ছোট ছেলে রহিম শেখ প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে কর্মক্ষমতা হারালে পরিবারটি পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।
সম্প্রতি ভাড়া বাসা ছাড়তে বাধ্য হওয়ার পর আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন মা-ছেলে। শেষ পর্যন্ত কর্ণপুর উত্তরপাড়া মাজার গেট এলাকার একটি পরিত্যক্ত ভবনে ঠাঁই নেন তারা। খোলা ও অনিরাপদ পরিবেশে মানবেতর অবস্থায় দিন কাটছে তাদের।
বৃদ্ধা সালেহা বেওয়া ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগলেও অর্থের অভাবে চিকিৎসা বা ওষুধ কোনোটিই জোটে না। স্থানীয়দের সহানুভূতিতে মাঝে মাঝে খাবার ও ন্যূনতম সহায়তা পেলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
সালেহা বেওয়ার কণ্ঠে ভেসে আসে জীবনের কষ্টগাঁথা—সারা জীবন অন্যকে কোরআন শিখিয়েও আজ নিজের জন্য দু-মুঠো খাবার আর এক কাপ চায়ের টাকাও জোটে না।
স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের দ্রুত হস্তক্ষেপে এই অসহায় মা-ছেলের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার চেষ্টা চলছে।
জীবনের শেষ সময়ে সালেহা বেওয়ার একটাই আকুতি—একটু নিরাপদ আশ্রয় আর ন্যূনতম খাবারের নিশ্চয়তা, যাতে অন্তত শেষ দিনগুলো মানবিক মর্যাদায় কাটাতে .
Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ
আপনার মতামত লিখুন: