• ঢাকা
  • শনিবার, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ১১ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

নন্দীগ্রামে শিলাবৃষ্টিতে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৭:৪৮ পিএম
ছবি : নিজস্ব প্রতিনিধি
ছবি : নিজস্ব প্রতিনিধি

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় আকস্মিক তীব্র শিলাবৃষ্টিতে কয়েক শত ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বড় আকারের শিলার আঘাতে অসংখ্য ঘরের টিনের চাল ফুটো হয়ে গেছে এবং আম-লিচুসহ বিভিন্ন ফলের বাগান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।.

গত মঙ্গলবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী এই শিলাবৃষ্টি হয়। উপজেলার ৫নং ভাটগ্রামসহ কাথম, দামগাড়া, তেঘরি, রিধইল, সিধইল, রনবাঘা, বুড়ইল, দাসগ্রাম, বড়ইচরা, তুলাষনসহ প্রায় ১৫টি গ্রাম এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে রিধইল গ্রাম ও এর আশপাশের এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ছিল সবচেয়ে বেশি।.

রিধইল গ্রামের বাসিন্দা আলমঙ্গীর জানান, হঠাৎ করেই আকাশ কালো হয়ে বড় বড় শিলা পড়তে শুরু করে। শিলার আঘাতে আমার ঘরের টিনের চাল পুরোপুরি ফুটো হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি।.

অনেক পরিবারের ঘরের চাল ভেঙে যাওয়ায় তারা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ছে, ফলে শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। শিলাবৃষ্টির কারণে ধান আম ও লিচুর বাগানে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মৌসুমের শুরুতেই ফল ঝরে পড়ায় কৃষকরা আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছিলেন , কিন্তু হঠাৎ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাদের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।.

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষরা। ঘরের চাল মেরামতের জন্য তাদের অনেকেই বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এক ক্ষতিগ্রস্ত গৃহবধূ বলেন, আমাদের একমাত্র ঘরটিই ছিল। শিলাবৃষ্টিতে চাল নষ্ট হয়ে গেছে। এখন বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। সরকারি সহায়তা পেলে অনেক উপকার হতো।.

 দিনমজুর আব্দুল মান্নান জানান, দিন এনে দিন খাই ঘর মেরামত করার মতো টাকা নেই। ঋণ না নিলে পরিবার নিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই থাকবে না।.

১নং বুড়ইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জানান, শিলাবৃষ্টির আঘাতে বুড়ইল ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের কয়েক শত ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইসঙ্গে আম ও লিচুর বাগানেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। .

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সরদার ফজলুল করিম জানান, ইতোমধ্যে নন্দীগ্রামের প্রায় ২০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার টিন সহায়তার জন্য আবেদন করেছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে । পরিদর্শন শেষে বরাদ্দ পাওয়া গেলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে সহায়তা প্রদান করা হবে।.

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার প্রত্যাশা করছেন। সময়মতো সহায়তা প্রদান করা হলে তারা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে সক্ষম হবেন।.

 .

মোঃ মামুন আহমেদ .

 . .

Ajker Bogura / মামুন আহমেদ

সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ