ঈদকে সামনে রেখে যখন হাজারো মানুষ প্রিয়জনের কাছে ফিরতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল-এ ঘটে যায় এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। বাড়ি ফেরার স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করা কয়েকজন মানুষের সেই পথই হয়ে ওঠে জীবনের শেষ অধ্যায়।
বুধবার (১৮ মার্চ ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ‘আসা যাওয়া-৫’ লঞ্চে যাত্রী ওঠানো হচ্ছিল। এ সময় পেছন দিক থেকে ‘এমভি জাকির সম্রাট-৩’ নামের আরেকটি লঞ্চ এসে ধাক্কা দেয়। হঠাৎ এই সংঘর্ষে দুই লঞ্চের মাঝখানে পড়ে কয়েকজন যাত্রী গুরুতরভাবে আহত হন এবং কেউ নদীতে পড়ে যান।
এই দুর্ঘটনায় মো. সোহেল (২২) নামে এক যুবক নিহত হন। তিনি বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের বাসিন্দা ছিলেন এবং ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফিরছিলেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় অন্তঃসত্ত্বা এক নারীসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং অন্তত দুইজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিখোঁজদের উদ্ধারে ডুবুরি দল কাজ শুরু করলেও রাত হওয়ায় অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লঞ্চে ওঠার সময় হঠাৎ ধাক্কা লাগায় যাত্রীরা ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। কেউ চাপা পড়ে যান, কেউ নদীতে পড়ে যান। মুহূর্তের মধ্যেই আনন্দমুখর ঘাটে নেমে আসে আতঙ্ক আর কান্না।
একাত্তর
এই দুর্ঘটনা শুধু একটি প্রাণহানির খবর নয়—এটি একটি পরিবারের ঈদ ভেঙে যাওয়ার গল্প। যে সোহেল ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ি ফিরছিলেন, তার জন্য এখন অপেক্ষা করছে শুধু নিথর দেহ। যে পরিবার দরজার দিকে তাকিয়ে ছিল, তাদের ঘরে এবার ঈদ আসবে না, আসবে শোক।
ঈদের আগে এমন দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল—অবহেলা আর বিশৃঙ্খলার মাঝে সবচেয়ে বেশি হারিয়ে যায় সাধারণ মানুষের জীবন আর স্বপ্ন।.
Ajker Bogura / সামসিল আরিফিন
আপনার মতামত লিখুন: