নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি:.
মানবিকতা এখনো বেঁচে আছে এমনই এক হৃদয়স্পর্শী দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আরা। শেষ সম্বল বিক্রি করে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করা অসহায় এক মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।.
.
(১১মার্চ) বুধবার দুপুরে ক্যান্সারে আক্রান্ত অসহায় মো. আব্দুল হাকিম সুলতান (৪৫) এর বাড়িতে ছুটে যান ইউএনও শারমিন আরা। এসময় তিনি সুলতানের শারীরিক খোঁজখবর নেন এবং তার হাতে নগদ অর্থ, খাদ্যসামগ্রী ও কম্বল তুলে দেন।.
.
প্রশাসনের এমন মানবিক সহায়তা পেয়ে আবেগে ভেঙে পড়েন সুলতান ও তার পরিবার। সহায়তা পাওয়ার পর কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা।.
.
জানা যায়, নন্দীগ্রাম উপজেলার দাড়িয়াপুর মন্ডলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আমজাদ হোসেনের ছেলে সুলতান দীর্ঘ তিন বছর ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। চিকিৎসার পেছনে ইতোমধ্যে প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। চিকিৎসার খরচ জোগাতে পরিবারটি তাদের ৩৩ শতাংশ জমি বিক্রি করে দিয়েছে। তবুও চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।.
.
একসময় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন সুলতান। কিন্তু অসুস্থ হয়ে পড়ার পর থেকে তিনি আর কোনো কাজ করতে পারছেন না। ফলে পাঁচ মেয়েকে নিয়ে তার পরিবার এখন চরম অর্থকষ্টে দিন পার করছে।.
.
সুলতানের ক্যান্সারের অপারেশন করা হয়েছিল বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু অপারেশনের পর তার শারীরিক অবস্থা আরও জটিল হয়ে পড়ে। বর্তমানে তার পেটে স্থাপন করা একটি নলের মাধ্যমে মলত্যাগ করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী থাকায় শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি মানসিক যন্ত্রণাও বাড়ছে দিন দিন।.
.
রমজান মাসেও পরিবারটির অবস্থা অত্যন্ত করুণ। অনেক দিন সেহরি ও ইফতার করতে হচ্ছে শুধু পানি খেয়েই।.
.
সুলতানের বৃদ্ধ বাবা আমজাদ আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,.
ছেলের চিকিৎসা করাতে যা ছিল সব শেষ হয়ে গেছে। জমি-জমাও বিক্রি করেছি। এখন সংসার চালানোর মতো কিছুই নেই। আমাদের ইউএনও স্যার যে সহায়তা করলেন, তা কখনো ভুলবো না। আল্লাহ তাকে ভালো রাখুক।.
.
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আরা বলেন,.
মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সুলতানের বিষয়টি জানার পর আমি নিজেই তার বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে কিছু সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও সরকারি বিভিন্ন সহায়তার মাধ্যমে তাকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।.
.
তিনি আরও বলেন,.
সমাজের বিত্তবান মানুষ ও সামাজিক সংগঠনগুলো যদি এগিয়ে আসে, তাহলে সুলতানের মতো অসহায় মানুষদের কষ্ট অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব।.
.
স্থানীয়রা জানান, প্রশাসনের এমন মানবিক উদ্যোগ সমাজের জন্য এক ইতিবাচক বার্তা বহন করে এবং অন্যদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে উদ্বুদ্ধ করবে।.
Ajker Bogura / মোঃ মামুন আহমেদ
আপনার মতামত লিখুন: